Aaj lndia Desk,কলকাতা: আন্দোলনের নামে সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের ঘটনায় এবার আরও কঠোর অবস্থান নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অব অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল, ২০২৬’-এর গেজেট বিজ্ঞপ্তি ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি, ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল মেনটেন্যান্স অফ পাবলিক অর্ডার, ১৯৭২’ আইনের সংশোধনী বিলও বিধানসভায় পেশ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সংশোধনী কার্যকর হলে সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরে অভিযুক্তদের কাছ থেকেই ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে রাজ্যে একাধিক আন্দোলনের সময় রেল ও সরকারি সম্পত্তিতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে নিমতিতায় ওয়াকফ বিরোধী বিক্ষোভ চলাকালীন ট্রেনে ইট ছোড়া, যাত্রী ও পুলিশ আহত হওয়া, আজিমগঞ্জে রেল অফিসে ভাঙচুর এবং ধুলিয়ানগঙ্গায় রেললাইনে পাথর ফেলে দীর্ঘ সময় ট্রেন চলাচল ব্যাহত হওয়ার ঘটনা সামনে আসে। এর আগে ২০২৩ সালে মালদহ ও ফরাক্কায় বন্দে ভারত এক্সপ্রেস লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। ২০২২ সালে ব্যারাকপুরে অগ্নিবীর প্রকল্পের প্রতিবাদে ট্রেনে হামলা এবং ২০১৯ সালে সিএএ বিরোধী আন্দোলনের সময় লালগোলা ও উলুবেড়িয়ায় ট্রেনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও বিতর্ক তৈরি করেছিল।
একাংশের দাবি, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অধিকার থাকলেও জনসম্পত্তি নষ্ট করার কোনও অধিকার কারও নেই। অন্যদিকে, বিরোধীদের অভিযোগ, নতুন আইন যেন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার না হয়, সেই বিষয়েও নজর রাখা জরুরি। ফলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের ভারসাম্য বজায় রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।


