কলকাতা: সাম্প্রতিক সময়ে দুর্নীতি, প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং প্রচলিত রাজনীতির বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছে দেশের তরুণ প্রজন্ম। জেন-জি এর এই উদ্যমকেই এবার কাজে লাগাতে চাইছেন নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর প্রপৌত্র চন্দ্র বসু (Chandra Bose)। বিজেপি ছেড়েছিলেন, পরে তৃণমূলেও যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু কোনও দলেই শেষ পর্যন্ত থিতু হলেন না নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর প্রপৌত্র চন্দ্র কুমার বসু। এবার সরাসরি নিজের রাজনৈতিক দল তৈরির ঘোষণা করলেন তিনি। দলের নাম, ‘আজাদ হিন্দ পার্টি’। আর এই নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগের কেন্দ্রে থাকছে দেশের যুব সম্প্রদায়।
চন্দ্র বসুর দাবি, সাম্প্রতিক জেন জি আন্দোলনই তাঁকে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম তৈরির ভাবনা দিয়েছে। তাঁর (Chandra Bose) মতে, দেশের তরুণ প্রজন্ম দুর্নীতি, প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং প্রচলিত রাজনীতির প্রতি ক্রমশ বিরক্ত। সেই ক্ষোভকে রাজনৈতিক পরিসর দেওয়াই তাঁর লক্ষ্য।
চন্দ্র বসুর বক্তব্য, স্বাধীনতার ৮০ বছর পরেও দেশের যুব সমাজের মধ্যে নতুন কিছু করার তাগিদ রয়েছে। সাম্প্রতিক আন্দোলনগুলিতে সেই মনোভাবই প্রকাশ পেয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তাঁর দাবি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিকাঠামো থেকে শিল্প, বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগে তরুণদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাই তাঁদের নিজেদের অধিকার ও ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলার জন্য একটি নতুন রাজনৈতিক মঞ্চ প্রয়োজন।
আর সেই মঞ্চ হিসেবেই সামনে আসছে ‘আজাদ হিন্দ পার্টি’। নেতাজির আজাদ হিন্দ ফৌজের আদর্শকে সামনে রেখে দলটি প্রগতিশীল ও ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির কথা বলবে বলে জানিয়েছেন চন্দ্র বসু (Chandra Bose)। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে তরুণ প্রজন্মকে এই উদ্যোগে যুক্ত করাই হবে দলের অন্যতম লক্ষ্য।
BJP থেকে TMC, এবার নিজের পথ
চন্দ্র বসুর রাজনৈতিক সফর অবশ্য কম চমকপ্রদ নয়। ২০১৬ সালে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি (Chandra Bose)। প্রায় সাত বছর গেরুয়া শিবিরে থাকার পর দল ছাড়েন। তাঁর অভিযোগ, নেতাজির আদর্শকে সামনে রেখে একটি ‘আজাদ হিন্দ মোর্চা’ তৈরি করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
এরপর ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলে যোগ দেন চন্দ্র বসু (Chandra Bose)। সেখানেও নেতাজির আদর্শ নিয়ে কাজ করার সুযোগ পাবেন বলে আশা করেছিলেন তিনি। কিন্তু নির্বাচনের পর ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তৃণমূলও ছেড়ে দেন। এবার তাই অন্য কোনও দলের ছাতার নিচে নয়, নিজের রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
রাজনীতিতে ‘তৃতীয় রাস্তা’?
চন্দ্র বসুর (Chandra Bose) বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি যুব সমাজের অসন্তোষ। তাঁর দাবি, দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলি একঘেয়ে এবং নিম্নরুচির রাজনীতিতে আটকে পড়েছে। সেই জায়গায় নেতাজির ধর্মনিরপেক্ষ ও প্রগতিশীল ভাবনাকে সামনে রেখে নতুন প্রজন্মকে নিয়ে এগোতে চান তিনি।
তবে ‘আজাদ হিন্দ পার্টি’ বাস্তবে কতটা রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। কারণ নেতাজির নাম ও আদর্শ নিঃসন্দেহে আবেগের সঙ্গে জড়িত হলেও, সেই আবেগকে ভোটের রাজনীতিতে সংগঠিত শক্তিতে পরিণত করা সহজ নয়।
বিজেপি থেকে তৃণমূল, আর এবার নিজের দল! চন্দ্র বসুর রাজনৈতিক যাত্রায় ফের এক বড় বাঁক। এবার তাঁর সঙ্গে কতজন তরুণ যোগ দেন, এবং ‘আজাদ হিন্দ পার্টি’ আদৌ বাংলার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে কি না, নজর থাকবে সেদিকেই।


