Aaj India Desk, কলকাতা: অর্থনীতির দৌড়ে ওড়িশা ও অসমের মতো প্রতিবেশী রাজ্যগুলি যখন পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal)-কে ছাপিয়ে এগিয়ে গিয়েছে, তখন সেই হারানো জায়গা ফিরে পেতেই বড়সড় পরিকল্পনা ঘোষণা করল রাজ্য সরকার (State Government)। শুক্রবার আয়োজিত এক বিশেষ বাণিজ্য সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত (Swapan Dasgupta) জানান, এবার বাংলাকে আবার দেশের অন্যতম শিল্প ও বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
অর্থমন্ত্রী বলেন, অতীতে নানা সমস্যার কারণে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শিল্পপতি—অনেকের মধ্যেই অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতি বদলাতে সরকার এখন দ্রুত কাজ করছে। তাঁর কথায়, পশ্চিমবঙ্গে ইতিমধ্যেই ব্যবসা করার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং আগামী দিনে আরও বড় পরিবর্তন দেখা যাবে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে ওড়িশা শিল্পোন্নয়নে অনেকটা এগিয়ে গিয়েছে। তাই এবার তাদের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলা। কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক সহযোগিতারও প্রশংসা করে তিনি বলেন, রাজ্যের উন্নয়নের জন্য এই সাহায্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শিল্পপতিদের উদ্দেশে অর্থমন্ত্রীর বার্তা, সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে ঠিকই, তবে রাজ্যের প্রকৃত দূত হবেন উদ্যোক্তারাই। শিল্পমহলের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে জমি সংক্রান্ত আইন আরও সহজ করার ইঙ্গিতও দেন তিনি। পাশাপাশি, নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে খুচরো ব্যবসায়ীদের জন্য ২৪ ঘণ্টা দোকান খোলা রাখার ব্যবস্থাও চালুর পরিকল্পনার কথা জানান।
সম্মেলনে একাধিক বড় সংস্থা বাংলায় বিনিয়োগের ঘোষণা করেছে। হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস দুর্গাপুজোর আগেই প্রায় ৬,০০০ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প শুরু করবে। এল অ্যান্ড টি ৩০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি আধুনিক ডেটা সেন্টার গড়ে তুলবে, যার মাধ্যমে প্রায় ২৫ হাজার সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হবে।
স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও বড় বিনিয়োগের ঘোষণা করেছে পিয়ারলেস। মোট ১,০০০ কোটি টাকার প্রকল্পের মধ্যে ক্যানসার চিকিৎসা বিভাগ সম্প্রসারণ, বারাসাত জেলা হাসপাতালের আধুনিকীকরণ এবং ভবিষ্যতে আবাসন ও শপিং মল তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। অন্যদিকে, রাজ্যের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের উন্নয়নে অংশীদার হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংস্থা PwC।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সঞ্জীব সান্যাল বলেন, একসময় দেশের গড় আয়ের তুলনায় বাংলার মানুষের আয় অনেক বেশি ছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই অবস্থার অনেকটাই অবনতি হয়েছে। তাঁর মতে, কলকাতাকে আবার পূর্ব ভারতের প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে পারলেই গোটা রাজ্যের উন্নয়নের পথ আরও সহজ হবে। শহরের অব্যবহৃত জমিগুলিকে শিল্প ও বাণিজ্যের কাজে ব্যবহার করার পরামর্শও দেন তিনি।
বাণিজ্য সম্মেলনে বর্ষীয়ান নেতা তাপস রায় জানান, শিল্প স্থাপনের অনুমতির জটিলতা কমিয়ে স্বচ্ছ ও দ্রুত পরিষেবা দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। তাঁর বিশ্বাস, পশ্চিমবঙ্গ এগোলে তার সুফল আশপাশের রাজ্যগুলিও পাবে।
একই মঞ্চে টেনিস কিংবদন্তি লিয়েন্ডার পেজ বাংলার ক্রীড়া পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আজ দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার মতো পর্যাপ্ত খেলোয়াড় বাংলা থেকে উঠে আসছে না। আগামী ২০ বছরে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন শিশুকে খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত করে তাদের দক্ষ করে তোলার লক্ষ্য নিয়েই তিনি কাজ করতে চান।


