কলকাতা: এক প্রবীণ রাজনীতিকের মর্মান্তিক মৃত্যু। আর সেই মৃত্যুকে ঘিরেই এবার তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা। রামপুরহাটের প্রাক্তন বিধায়ক, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার এবং রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ashish Banerjee) মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করতে গিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
রবিবার এক্স পোস্টে মমতা দাবি করেন, জীবনের শেষ দিনগুলিতে প্রবল মানসিক চাপের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছিল আশিসকে। তাঁর অভিযোগ, আশিসকে বারবার অপমান করা হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে এবং রাজনৈতিক চাপ তৈরি করা হয়েছে।
মমতার (Mamata Banerjee) প্রশ্নের সুরেই যেন সামনে এল আরও বড় প্রশ্ন, কী ধরনের চাপের মধ্যে ছিলেন আশিস (Ashish Banerjee)? তাঁর মৃত্যুর নেপথ্যে সেই চাপের কোনও ভূমিকা ছিল কি?
‘এই পরিণতি নিয়ে সকলের ভাবা উচিত’
আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ashish Banerjee) মৃত্যু তাঁকে গভীরভাবে বিচলিত করেছে বলে জানান মমতা। তাঁর বক্তব্য, আশিস ছিলেন অত্যন্ত সাধারণ ও বিনয়ী মানুষ। শিক্ষকতা, সমাজসেবা এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের মাধ্যমে রামপুরহাট ও বীরভূমের মানুষের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। মমতার (Mamata Banerjee) দাবি, রাজনৈতিক ও মানসিক চাপের যে পরিস্থিতির মধ্যে আশিসকে থাকতে হয়েছিল, তার ‘পরিণতি’ নিয়ে সকলের ভাবা উচিত।
তবে মমতার এই অভিযোগের কোনও নির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ ওই পোস্টে করা হয়নি। ফলে প্রশ্ন উঠছে, কোন অপমান, কোন অভিযোগ এবং কী ধরনের রাজনৈতিক চাপের কথা বলছেন তিনি?
পাঁচবারের বিধায়ক, ডেপুটি স্পিকার—শেষে এমন পরিণতি!
আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় (Ashish Banerjee) রামপুরহাটের পাঁচবারের বিধায়ক ছিলেন। বিধানসভার ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্বও সামলেছেন। রাজ্য সরকারের একাধিক দফতরের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পর ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ধ্রুব সাহার কাছে পরাজিত হন আশিস।
এরপর রবিবার সকালে রামপুরহাটে তাঁর বাড়ির কাছের তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনাস্থল থেকে সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।
‘সজ্জন নেতা ছিলেন’, বললেন শুভেন্দু
আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে মুখ খুলেছেন শুভেন্দু অধিকারীও। তাঁর দাবি, আশিস অত্যন্ত ভদ্র ও সজ্জন রাজনৈতিক নেতা ছিলেন। এমনকী স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের সঙ্গেও তাঁর সুসম্পর্ক ছিল বলে জানান তিনি।
শুভেন্দুর আরও দাবি, আশিসের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কও ভাল ছিল। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর আশিস তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন বলেও জানান তিনি। আশিসের পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছে জানিয়ে পরিবারের সদস্যদের পুলিশের তদন্তে সহযোগিতা করার আবেদন করেছেন শুভেন্দু।
মমতা বনাম শুভেন্দু—দুই বক্তব্যে নতুন প্রশ্ন
একদিকে মমতার (Mamata Banerjee) দাবি, ‘মিথ্যা অভিযোগ, অপমান ও প্রবল রাজনৈতিক-মানসিক চাপ’। অন্যদিকে শুভেন্দুর বক্তব্যে উঠে এসেছে আশিসের ‘সজ্জন’ ভাবমূর্তি এবং তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা। ফলে আশিসের মৃত্যুকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরে এখন তদন্তকারীদের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল সুইসাইড নোট এবং মৃত্যুর পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি।


