Aaj India Desk, দক্ষিণ ২৪ পরগণা : ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোট শেষ হওয়ার পর থেকেই অনিয়মের জেরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা (Falta) বিধানসভা কেন্দ্র নিয়ে চলছিল বিক্ষোভ। এবার সেই পরিপ্রেক্ষিতেই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিলো কমিশন। ফলতার মোট ২৮৫টি ভোটকেন্দ্রেই নতুন করে ভোটগ্রহণের নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন।
কেনো সব বুথেই পুনর্নির্বাচন ?
ফলতায় (Falta) ভোটের দিন একাধিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। কমিশনের নথি অনুযায়ী, কিছু বুথে ব্যালট ইউনিটের নির্দিষ্ট বোতামে কালো টেপ লাগানোর অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি ভোটারদের ভয় দেখানো, বুথ দখল এবং ইভিএমে হস্তক্ষেপের অভিযোগও জমা পড়ে।
- বুথ ১৮২ : একই মহিলা ও দুই ব্যক্তি দীর্ঘ সময় ধরে ভুয়ো ভোট দেওয়ার অভিযোগ
- বুথ ২২৫, ২৩২, ২৪৫ : একাধিক ‘কম্প্যানিয়ন ভোটিং’
- বুথ ২২৬ : সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা ১২ মিনিট এবং ১টা ১৮ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৪৩ মিনিট পর্যন্ত ভিডিও ফুটেজ অনুপস্থিত
- বুথ ২৩৫ : সকাল ১০টা ৫৫ মিনিট থেকে ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত ভিডিও নেই
- বুথ ১০, ৭৬, ৭৭, ৯৯, ১০০, ১১৮, ১৩৮, ১৪০, ১৪৬, ১৫৬, ১৬৫, ১৮৬, ১৯৩, ২১৮ : দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত কোনও ভিডিও ফুটেজ পাওয়া যায়নি
তবে এই ঘটনার পর দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানায় প্রশাসন। সংশ্লিষ্ট থানার ওসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন।
কী কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন?
তবে এইসব অভিযোগের প্রেক্ষিতেই ২৯ এপ্রিলের ভোট বাতিল করে ২১ মে গোটা ফলতা জুড়ে ‘ফ্রেশ পোল’ হবে। ৪ই মে ভোট গণনার সময় ফলতা কেন্দ্রের ভোট গণনা হবে না। অর্থাৎ ৪ই মে মোট ২৯৩ টি কেন্দ্রের ভোট গণনা হবে। ফলতা কেন্দ্রের ভোট গণনা হবে ২৪ মে। সাধারণত অশান্তির ঘটনায় নির্দিষ্ট বুথে পুনর্ভোট হয়। তবে পুরো বিধানসভা কেন্দ্রে ‘ফ্রেশ পোল’ ঘোষণা বিরল ঘটনা। কমিশনের এই পদক্ষেপ রাজ্যের নির্বাচনী ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ফলতায় (Falta) নির্বাচনের আগে উত্তেজনার কথা মাথায় রেখে ২৯ এপ্রিলের আগে থেকেই সেখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছিল কমিশন। এমনকি উত্তরপ্রদেশ থেকে আগত ‘সিংঘম’ অজয় পাল শর্মাকেও সেখানের বুথগুলিতে নজরদারি করতে পাঠানো হয়। বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও এই কেন্দ্রে এই ধরনের অনিয়ম এবং ইভিএম হস্তক্ষেপ কিভাবে ঘটলো তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিরোধীদের মধ্যে।
কমিশনের এই পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তৃনমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ বলেন, “কমিশনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যর্থ হয়েছে। ভোটে কারচুপি হয়েছে, কিন্তু তারা ধরতে পারেনি।” তিনি ডায়মন্ড হারবারের পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি
অন্যদিকে ফলতার ঘটনায় স্থানীয় ভোটারদের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা গেছে। গতকাল ডায়মন্ড হারবার ও মগরাহাট পশ্চিমের পুনর্নির্বাচন হওয়া সত্ত্বেও ফলতা কেন্দ্রের বিষয়ে কিছু ঘোষণা না করায় অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিলেন তারা। পাশাপাশি তৃনমূলের বিরুদ্ধে তাদের ভয় দেখানোর অভিযোগ তুলে তারা বিক্ষোভও করেছিলেন। ফলে কমিশনের এই সিদ্ধান্তে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে ভোটারদের মনে।


