Aaj India Desk, কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur University)-এর মেন হস্টেলকে ঘিরে ফের নজরে এল প্রশাসনিক তৎপরতা। র্যাগিং-সহ নানা অভিযোগ নিয়ে যেখানে আগেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেখানেই আচমকা হস্টেলে পৌঁছে গেলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দেবাজিত দত্ত (Debajit Dutta)। আগে থেকে কোনও ঘোষণা না দিয়েই তাঁর এই পরিদর্শন ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে শুরু হয়েছে আলোচনা।
পড়ুয়াদের মুখোমুখি রেজিস্ট্রার
হস্টেলে গিয়ে সরাসরি আবাসিক পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলেন দেবাজিত দত্ত। হস্টেলের ভিতরের পরিবেশ কেমন, কী ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে, কোনও অভিযোগ রয়েছে কি না একাধিক বিষয় নিয়ে পড়ুয়াদের কাছ থেকেই তথ্য নেন তিনি।
পড়ুয়াদের বক্তব্যে উঠে আসে বেশ কিছু দৈনন্দিন সমস্যার কথা। বিশেষ করে ইন্টারনেট পরিষেবা, লাইট ও ফ্যানের সমস্যা নিয়ে অভিযোগ জানানো হয়। হস্টেলের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়েও অসন্তোষের কথা প্রশাসনের কাছে তুলে ধরেন আবাসিকরা।
১৫ দিনের মধ্যে সমস্যা মেটানোর আশ্বাস
শুধু অভিযোগ শুনেই থেমে থাকেননি রেজিস্ট্রার। সংশ্লিষ্ট দফতর এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি, হস্টেলের যে সমস্যাগুলি পড়ুয়ারা জানিয়েছেন, সেগুলি দ্রুত মেটানোর বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। রেজিস্ট্রার দেবাজিত দত্ত ১৫ দিনের মধ্যে সমস্যাগুলির সমাধানের কথা জানিয়েছেন।
কর্মীদের হাজিরাতেও কড়া নিয়ম
অন্যদিকে, হস্টেলে এই আকস্মিক পরিদর্শনের পাশাপাশি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও সম্প্রতি কড়া নিয়ম চালু হয়েছে। আধিকারিক এবং অশিক্ষক কর্মীদের অফিসে হাজিরা নিয়ে ২৪ সেপ্টেম্বর একটি সার্কুলার জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত নির্ধারিত কর্মসময়। সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের পর অফিসে পৌঁছলে ‘লেট’ হিসেবে ধরা হবে। আর ১০টা ৪৫ মিনিটের পরে হাজির হলে সংশ্লিষ্ট কর্মীকে ওই দিনের জন্য অনুপস্থিত হিসেবে গণ্য করা হতে পারে।
দেরি করলে ছুটিও কাটতে পারে
নির্দেশিকায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কোনও কর্মী এক মাসে তিন দিন দেরি করে অফিসে এলে এক দিনের ক্যাজুয়াল বা কমপেনসেটরি ছুটি কেটে নেওয়ার ব্যবস্থা হতে পারে। একইসঙ্গে অনুমতি ছাড়া নির্ধারিত সময়ের আগেই অফিস ছাড়ার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
ফলে কর্মীদের সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করার জন্য কড়া নজরদারির পাশাপাশি এবার হস্টেলের সমস্যার দিকেও প্রশাসন সরাসরি নজর দিচ্ছে। মেন হস্টেলে রেজিস্ট্রারের এই আচমকা ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’ সেই বৃহত্তর প্রশাসনিক তৎপরতারই একটি অংশ কি না, তা নিয়েও বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে আলোচনা শুরু হয়েছে।


