Aaj India Desk, কলকাতা: শনিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) শ্রীরামপুরের সভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে উত্তরপাড়ায় বিক্ষোভের মুখে পড়েন কুণাল ঘোষ (kunal Ghosh)। অভিযোগ, উত্তরপাড়ায় তাঁর গাড়ির পথ আটকানো হয়। এরপর গাড়ি লক্ষ্য করে পাথর ও ডিম ছোড়া হয়। গাড়িতে লাঠি-রড দিয়ে আঘাত করারও অভিযোগ ওঠে। হামলায় গাড়ির কাচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শেষ পর্যন্ত সেখানে থেকেই ফিরে আসতে হয় কুণালকে। ঘটনাটি নিয়ে তৃণমূল (TMC) ও বিজেপির (BJP) মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগও সামনে এসেছে।
এরপর বাড়ি বা কালীঘাটে না গিয়ে সরাসরি ভবানী ভবনে যাওয়ার চেষ্টা করেন কুণাল ঘোষ। তবে সেখানে তাঁকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। শনিবারের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মমতার সভার আগে থেকেই রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশি নিরাপত্তায় হাইওয়ে ধরে শ্রীরামপুর কোর্ট ময়দানে পৌঁছন।
এই ঘটনা নিয়ে রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষকে প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি হামলার দায় কার, তা না বলে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের দিকেই ইঙ্গিত করেন। তাঁর দাবি, কুণাল ঘোষ কেন এমন পরিস্থিতিতে সেখানে গিয়েছিলেন, সেই প্রশ্নও রয়েছে। দিলীপের বক্তব্য, কুণালের কোনও অভিযোগ থাকলে তিনি হুগলিতে যেতে পারতেন, উত্তরপাড়ায় যাওয়ার কারণ কী ছিল—তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
মমতার হকার মন্তব্য নিয়েও দিলীপের কটাক্ষ
শ্রীরামপুরের সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হকারদের পাশে থাকার কথা বলেন। হকারদের উচ্ছেদ বা রুজি-রোজগারের সমস্যার ক্ষেত্রে আদালতে আইনি লড়াই করার কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি SIR নিয়ে সাধারণ মানুষের নানা সমস্যা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন মমতা। তাঁর বক্তব্য, বহু গরিব মানুষ নাম বাদ যাওয়ার কারণে রেশন ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
মমতার এই বক্তব্যেরও পাল্টা জবাব দেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, তৃণমূল ও সিপিএমের লোকজন টাকা নিয়ে হকার বসিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, এমনিতেই শহরের রাস্তা ও ফুটপাথের জায়গা সীমিত। তার উপর ফুটপাথ দখল হয়ে গেলে সাধারণ মানুষের চলাচলে সমস্যা তৈরি হয় এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ে। তাই রাস্তা বা ফুটপাথ দখল করে ব্যবসা না করে নির্দিষ্ট অন্য জায়গায় ব্যবসা করার পক্ষে সওয়াল করেন তিনি।
রাজ্য বিজেপির সংগঠনে রদবদল
এদিকে শুক্রবার রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক স্তরে বেশ কিছু পরিবর্তন করা হয়েছে। যাদবপুরের বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়কে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে। পাশাপাশি মন্ত্রীদেরও বড় সাংগঠনিক পদে না রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এই পরিবর্তন প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ জানান, সংগঠনে রদবদল হওয়ার বিষয়টি আগেই প্রত্যাশিত ছিল। তাঁর বক্তব্য, দলের বেশ কিছু নেতা বর্তমানে সরকারের দায়িত্বে চলে যাওয়ায় সংগঠনে কিছু পদ খালি হয়েছে। সেই কারণেই নতুন করে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। দিলীপের কথায়, বিরোধী দল হিসেবে এতদিন বিজেপি একভাবে কাজ করেছে। এখন সরকারে আসার পর দলের নেতাদের দায়িত্বও বেড়েছে। তাই সংগঠনের মধ্যে নতুন করে প্রশিক্ষণ এবং পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে।
আজ বাংলায় নিতিন নবীন
এর মধ্যেই রবিবার বাংলায় আসছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। রাজ্যে এসে নিউটাউনের কনভেনশন সেন্টারে দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করার কথা রয়েছে তাঁর। মোর্চা সভাপতি থেকে শুরু করে মন্ত্রীদের সঙ্গেও আলাদা করে আলোচনা করার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর এই সফর ২৭ ও ২৮ সেপ্টেম্বরের সাংগঠনিক কর্মসূচির অংশ।
কেন এই বৈঠক, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্য বিজেপির সংগঠনে বেশ কিছু পরিবর্তন হয়েছে। নতুন সরকার তৈরি হওয়ার পর দলের সাংগঠনিক কাজকর্ম ঠিকমতো চলছে কি না, নেতাদের কাজের ধরন কেমন এবং তাঁদের চিন্তাভাবনা কোন পর্যায়ে রয়েছে—এসব বিষয় খতিয়ে দেখতেই নিতিন নবীনের এই সফর। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশও দেবেন তিনি।


