Aaj India Desk, কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)-কে ঘিরে ফের নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস (BJP Leader Abhijit Das) ওরফে, ববি তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলে মহেশতলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর দাবি, দক্ষিণ ২৪ পরগনার মহেশতলার জিনজিরা বাজার এলাকায় সরকারি লিজের জমি নিয়ম ভেঙে অন্য কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি নথিভুক্ত একাধিক জলাশয় ভরাট করে সেখানে বাণিজ্যিক প্রকল্প গড়ে তোলার অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
অভিজিৎ দাসের অভিযোগ, এই গোটা ঘটনায় ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা থাকতে পারে। সেই কারণেই তিনি বিষয়টি নিয়ে পুলিশের কাছে এফআইআর করেছেন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। বিজেপি নেতার দাবি, ১৯৬৮ সালে জিনজিরা বাজারের প্রায় ৫২ বিঘা সরকারি জমি একটি শিল্প সংস্থাকে ৯৯ বছরের জন্য লিজ দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় শর্ত ছিল, কারখানার সম্প্রসারণের পাশাপাশি এলাকার যুবকদের বিনামূল্যে কারিগরি প্রশিক্ষণ দিতে হবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, ২০১৬ সালে সরকারের অনুমতি ছাড়াই সেই গুরুত্বপূর্ণ শর্ত বাদ দিয়ে জমিটি বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের পথ খুলে দেওয়া হয়।
এতেই শেষ নয়। অভিজিৎ দাসের আরও দাবি, ওই জমির মধ্যে সরকারি নথিতে ১১টি জলাশয়ের উল্লেখ ছিল। কিন্তু ২০১৮-১৯ সালের মধ্যে ভুয়া নথি ও জাল মেমো ব্যবহার করে সেগুলির শ্রেণিবিভাগ বদলে দেওয়া হয়। অভিযোগ, জলাশয়গুলিকে ‘বাস্তু’ জমি হিসেবে দেখিয়ে পরে ভরাট করে সেখানে একটি লজিস্টিক পার্ক তৈরি করা হয়েছে।
তাঁর অভিযোগ, পুরো প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে এবং প্রভাব খাটিয়ে সরকারি সিদ্ধান্ত বদলানো হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকজন সরকারি আধিকারিক, কিছু বেসরকারি সংস্থা এবং এলাকার প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকাও তদন্ত করে দেখা উচিত বলে তিনি দাবি করেছেন।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে অভিজিৎ দাসের অভিযোগ অবশ্য এই প্রথম নয়। এর আগেও তিনি ডায়মন্ড হারবারে আয়োজিত ‘সেবাশ্রয়’ স্বাস্থ্য শিবিরে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য ভবন তদন্ত শুরু করেছে বলে তাঁর দাবি।
সম্প্রতি করোনা মহামারির সময় ডায়মন্ড হারবারে কোভিড পরীক্ষার প্রক্রিয়া নিয়েও নতুন অভিযোগ করেছেন বিজেপি নেতা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর থানায় দায়ের করা আরেকটি লিখিত অভিযোগে তিনি দাবি করেন, কোভিড পরীক্ষার জন্য বিপুল সংখ্যক নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার ক্ষেত্রে বড় ধরনের অনিয়ম ও জালিয়াতি হয়েছে। সেই বিষয়েও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, আমতলার অফিস ভাঙার মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যখন আইনি লড়াইয়ের মধ্যে রয়েছেন, ঠিক সেই সময় ধারাবাহিকভাবে তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ এবং এফআইআর দায়ের হওয়ায় রাজনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশল হিসেবেই বিষয়টিকে দেখা হচ্ছে। যদিও এই অভিযোগগুলির বিষয়ে এখনও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।


