Aaj lndia Desk,কলকাতা: দেশের জনগণনার ইতিহাসে শুরু হতে চলেছে নতুন অধ্যায়। প্রথমবার সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে জনগণনা হতে চলেছে ভারতে। সেই প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ শুরু হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গেও। নাগরিকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে এবার চালু করা হয়েছে ‘সেলফ এনুমারেশন’ (Self Enumeration) ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ নিজের পরিবারের তথ্য অনলাইনে নিজেরাই নথিভুক্ত করতে পারবেন।
রাজ্য সরকারের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ১ আগস্ট থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সেলফ এনুমারেশনের সুযোগ থাকবে। এই সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট সরকারি পোর্টালে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দেওয়া যাবে।
এরপর ১৬ আগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে বাড়ি তালিকাভুক্তি ও গৃহগণনার কাজ। এই পর্যায়ে বাড়ির ধরন ও অবস্থা, পরিবারের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য এবং পানীয় জল, শৌচাগার, বিদ্যুৎ, রান্নার জ্বালানি ও ইন্টারনেটের মতো পরিষেবা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করবেন গণনাকর্মীরা। পাশাপাশি বাড়িতে রেডিয়ো, টেলিভিশন, কম্পিউটার, দু’চাকার বা চারচাকার গাড়ি রয়েছে কি না, সেই তথ্যও নেওয়া হবে।
কীভাবে করবেন সেলফ এনুমারেশন?
প্রথমে সরকারি সেলফ এনুমারেশন পোর্টালে লগ ইন করতে হবে। এরপর নিজের রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল নির্বাচন করে ক্যাপচা পূরণ করতে হবে। পরবর্তী ধাপে বাড়ির কর্তা বা কর্ত্রীর নাম, মোবাইল নম্বর এবং চাইলে ইমেল আইডি দিতে হবে। পছন্দের ভাষা নির্বাচন করার পর মোবাইলে আসা ওটিপি (OTP) দিয়ে যাচাইকরণ সম্পন্ন করতে হবে।
এরপর জেলা, পিন কোড এবং গ্রাম, শহর বা এলাকার নাম লিখতে হবে। স্ক্রিনে একটি ডিজিটাল মানচিত্র দেখা যাবে, যেখানে নিজের বাড়ির অবস্থান চিহ্নিত করার সুযোগ থাকবে। প্রয়োজনীয় হাউসলিস্টিং তথ্য পূরণের পর একটি প্রিভিউ স্ক্রিন আসবে। সেখানে দেওয়া সমস্ত তথ্য ভালোভাবে মিলিয়ে দেখে ‘ফাইনাল সাবমিট’ বাটনে ক্লিক করতে হবে।
তথ্য জমা পড়লে মোবাইল নম্বর বা ইমেল আইডিতে একটি ১১ অঙ্কের ইউনিক আইডি পাঠানো হবে। পরে জনগণনার দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীরা বাড়িতে এলে সেই নম্বরটি জানাতে হবে। তাঁরা তথ্য যাচাই করে তা সরকারি সার্ভারে আপলোড করবেন।
জনগণনার দ্বিতীয় পর্যায় হওয়ার কথা ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে। তখন পরিবারের প্রতিটি সদস্যের নাম, বয়স, লিঙ্গ, জাতি ও ধর্ম-সহ বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
দেশে শেষবার জনগণনা হয়েছিল ২০১১ সালে। সাধারণত প্রতি ১০ বছর অন্তর এই কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা। সেই হিসেবে ২০২১ সালে জনগণনা হওয়ার কথা থাকলেও কোভিড অতিমারীর কারণে তা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ বিরতির পর এবার ডিজিটাল প্রযুক্তির সাহায্যে দেশের এই বৃহৎ গণনা কর্মসূচি শুরু হতে চলেছে।


