Aaj India Desk, কলকাতা : কলকাতার বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্সে বিশ্ব এমএসএমই দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় রাজ্যের সরকারি আইটিআই কলেজগুলি বেসরকারি শিল্পগোষ্ঠীর হাতে পরিচালনার (ITI Privatisation) ঘোষণা করেন। সরকারের দাবি, এর ফলে পরিকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক প্রযুক্তি এবং শিল্পমুখী প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়বে। তবে এই ঘোষণার পরই শিক্ষার বেসরকারিকরণ, সম্ভাব্য ফি বৃদ্ধি এবং সাধারণ পরিবারের ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
৫১টি আইটিআই বেসরকারি পরিচালনায়
মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় জানান, রাজ্যের ৫১টি আইটিআই কলেজ বেসরকারি শিল্পগোষ্ঠীর সহযোগিতায় পরিচালিত (ITI Privatisation) হবে। তাঁর বক্তব্য, শুধুমাত্র সরকারি অর্থের উপর নির্ভর করলে প্রয়োজনীয় আধুনিকীকরণ সম্ভব নয়। তাই কর্পোরেট বিনিয়োগের মাধ্যমে পরিকাঠামো উন্নত করা এবং শিল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করাই সরকারের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, দেশের অন্যান্য রাজ্যে যেভাবে শিল্প সংস্থার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কারিগরি শিক্ষা পরিচালিত হচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গও সেই পথেই এগোতে চায়। টাটা-সহ প্রথম সারির শিল্প সংস্থাগুলির সঙ্গে অংশীদারিত্বের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
পাশাপাশি উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জানান, শুধু ভর্তুকি দিয়ে শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব নয়। ব্যবসার পথে প্রশাসনিক ও অন্যান্য বাধা দূর করে একটি অনুকূল শিল্প পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বেঙ্গল চেম্বার ও শিল্পপতিদের রাজ্যে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বানও জানান তিনি। সরকারের বক্তব্য, বেসরকারি অংশীদারিত্বের (ITI Privatisation) মাধ্যমে শিক্ষার মান উন্নত হবে। তবে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ইতিমধ্যেই একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে।
বেসরকারিকরণ ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক
শিক্ষা মহলের একাংশের মতে, বেসরকারি সংস্থার বিনিয়োগ বাড়লে পরিচালন ব্যয়ও বাড়তে পারে। সেই ব্যয়ের প্রভাব ছাত্রছাত্রীদের ফি-র উপর পড়বে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। যদি প্রশিক্ষণের খরচ বৃদ্ধি পায়, তাহলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের বহু ছাত্রছাত্রীর পক্ষে কারিগরি শিক্ষায় ভর্তি হওয়া কঠিন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন জরুরি হলেও, তার জন্য বেসরকারিকরণই একমাত্র পথ কি না, তা নিয়ে নীতিগত বিতর্ক রয়েছে। সমালোচকদের প্রশ্ন, সরকারি বিনিয়োগ বাড়িয়ে পরিকাঠামো উন্নত করার বিকল্প পথ কি বিবেচনা করা হয়েছে? পাশাপাশি, বেসরকারি পরিচালনায় শিক্ষার সুযোগ ও খরচের ভারসাম্য কীভাবে বজায় থাকবে, সেই বিষয়েও স্পষ্ট নীতির দাবি উঠছে। এখন নজর থাকবে, সরকার এই প্রকল্পের রূপরেখা, ফি কাঠামো এবং ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থ রক্ষায় কী ধরনের নীতি গ্রহণ করে।


