Aaj India Desk, কলকাতা: আসন্ন পুরভোটের আগে বিধাননগর পুরসভার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড অফিস (Ward Office)-কে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সুকান্তনগর (SukantaNagar) এলাকার এই সরকারি ওয়ার্ড অফিসের ভেতরে একটি সাজানো বেডরুম, একাধিক এসি, আলমারিতে রাখা বালিশ, ড্রেসিং টেবিল এবং একটি কন্ডোমের প্যাকেট উদ্ধারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনাকে সামনে এনে তৃণমূল (TMC)-কে তীব্র আক্রমণ করেছে বিজেপি (BJP)। ঘটনাস্থল ঘুরে দেখে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় সুকান্তনগরে আসন্ন পুরভোট উপলক্ষে বিজেপির একটি পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষ হওয়ার পর রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে বিজেপি নেতা-কর্মীরা বিধাননগর পুরসভার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড অফিসে প্রবেশ করেন। সেখানে ঢুকেই তাঁরা অফিসের ভেতরের ব্যবস্থা দেখে বিস্মিত হন।
বিজেপির অভিযোগ, অফিসের একটি বড় ঘরের মধ্যে পরপর পাঁচটি এসি লাগানো ছিল। সেই ঘরের পাশেই ছিল একটি আলাদা গোপন ঘর। ওই ঘরে ঢুকে দেখা যায়, একটি বড় খাট সুন্দরভাবে পাতা রয়েছে, যা দেখে অনেকেরই মনে হয়েছে এটি কোনও হোটেলের বেডরুমের মতো করে সাজানো।
এরপর বিজেপি কর্মীরা ওই ঘরের আলমারি খুলে দেখেন, সেখানে সারি সারি বালিশ রাখা রয়েছে। ঘরের মধ্যে আরও ছিল মহিলাদের ব্যবহারের জন্য একটি ড্রেসিং টেবিল। অভিযোগ, কৌতূহলবশত ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ার খুলতেই সেখান থেকে একটি কন্ডোমের প্যাকেট উদ্ধার হয়। একটি সরকারি ওয়ার্ড অফিসের ভেতরে এই ধরনের সামগ্রী পাওয়া নিয়ে উপস্থিতদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
উল্লেখ্য, বিধাননগর পুরসভার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৎকালীন তৃণমূল কাউন্সিলর জয়দেব নস্কর কিছুদিন আগেই পদত্যাগ করেছেন। বর্তমানে ওই ওয়ার্ডের প্রশাসনিক দায়িত্ব সরকারি প্রশাসকের হাতে রয়েছে। তবে এই ওয়ার্ড অফিসের ভেতরে এমন ব্যবস্থা কেন ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি। তাদের অভিযোগ, সরকারি অফিসকে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, “আমার বয়স হয়েছে। এই বয়সে এসে এমন জিনিস দেখাও পাপ। আজ বুঝতে পারলাম, সরকারি অফিসের ভেতরে কেন এই গোপন বেডরুম তৈরি করা হয়েছিল।” তিনি আরও দাবি করেন, এই অফিসকে গঙ্গাজল দিয়ে ধুয়ে শুদ্ধ করা উচিত।
তবে এই ঘটনার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেস বা প্রাক্তন কাউন্সিলর জয়দেব নস্করের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এছাড়া বিজেপির তোলা অভিযোগগুলিও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পুরভোটের আগে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।


