Aaj India Desk, কলকাতা: সেবাশ্রয় দুর্নীতি (Sebashray Scam) নিয়ে শনিবার বিধানসভায় বড় বিবৃতি দেবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তার আগেই সেবাশ্রয় মেডিক্যাল ক্যাম্প (Sebashray Medical Camp) ঘিরে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন ফলতার বিজেপি বিধায়ক দেবাংশু পণ্ডা।
শুক্রবার বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে দেবাংশু পণ্ডা দাবি করেন, তাঁর এলাকায় এখনও সেবাশ্রয় মেডিক্যাল ক্যাম্পের কাঠামো মাঠ দখল করে পড়ে রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ওই ক্যাম্প সরাতে প্রায় ২৪ লক্ষ টাকা খরচ হবে। পাশাপাশি তিনি বলেন, এলাকার কয়েকটি নার্সিংহোম থেকে জোর করে চিকিৎসার বিভিন্ন যন্ত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, যা এখন তদন্তের স্বার্থে পুলিশ বাজেয়াপ্ত করছে।
বিধায়কের আরও অভিযোগ, এই ঘটনার জেরে এলাকায় স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাঁর দাবি, ক্যাম্পের জায়গায় মাটি খুঁড়লেও ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া স্থানীয়দের কাছ থেকে এমন কথাও শোনা যাচ্ছে যে, ৪ মে-র পর ওই ক্যাম্পে বিজেপি নেতাদের চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হতো। সেই কারণেই ক্যাম্পটি দীর্ঘদিন ধরে সরানো হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে শুক্রবার বিধানসভায় রাজ্যের মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ জানান, সেবাশ্রয় দুর্নীতি ও সেবাশ্রয় মেডিক্যাল ক্যাম্পে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে শনিবার বিধানসভার মেঝেতে গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতি দেবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
উল্লেখ্য, ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে পরিচালিত সেবাশ্রয় মেডিক্যাল ক্যাম্প নিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস (ববি) লিখিত অভিযোগে দাবি করেছেন, ক্যাম্পে ব্যবহৃত এক্স-রে এবং ইউএসজি মেশিন পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমোদন, লাইসেন্স ও সরকারি নিয়ম মানা হয়নি। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ ডায়মন্ড হারবার ও বজবজের একাধিক নার্সিংহোমে তল্লাশি চালিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। এছাড়াও অভিযোগ উঠেছে, ক্যাম্পে পরিষেবা দেওয়া কয়েকজন চিকিৎসকের প্রয়োজনীয় ডিগ্রি ছিল না।
যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই দাবি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে টার্গেট করতেই এই বিষয়টি বারবার তোলা হচ্ছে। তিনি এই বিধানসভার সদস্য নন। যদি তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকে, তাহলে তাঁকে জবাব দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক। তিনি একজন সাংসদ। লোকসভায় বিষয়টি তোলা হোক, যাতে তিনি সেখানেই নিজের বক্তব্য রাখতে পারেন। এখানে তাঁকে নিয়ে রাজনৈতিক আক্রমণ করার কোনও যুক্তি নেই।”


