Aaj India Desk, হুগলি : গত কয়েকদিনে একাধিক প্রভাবশালী নেতা দল ছেড়ে বেরিয়ে ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিয়েছেন। এবার আরও এক ধাক্কার মুখোমুখি তৃণমূল কংগ্রেস। রবিবারই সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সপ্তগ্রামের প্রাক্তন বিধায়ক ও প্রাক্তন মন্ত্রী তপন দাশগুপ্ত (Tapan Dasgupta)। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোগী তপন দল ছাড়ার ঘোষণা করে অভিযোগ করেন, দলের নেতৃত্বের ত্রুটি এবং রাজনীতিকে ‘ব্যবসায়’ পরিণত করার প্রবণতার জেরেই দলের এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
চার দশকের রাজনৈতিক সম্পর্কের অবসান
প্রায় ৪০ বছর ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযাত্রী ছিলেন তপন দাশগুপ্ত (Tapan Dasgupta)। তৃণমূল জমানায় তিনি তিন বার বিধায়ক এবং দু’বার মন্ত্রী হন। ২০১৬ সালে তিনি রাজ্যের কৃষি বিপণন মন্ত্রী ছিলেন। এছাড়াও তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি, ফুরফুরা ডেভেলপমেন্ট অথরিটি, পশুপালন দপ্তর এবং ফরেস্ট কর্পোরেশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও সামলেছেন।
দল ছাড়ার পর তোপ
দল ছাড়ার ঘোষণা করে অভিষেককে নিশানা করে তপন দাশগুপ্ত (Tapan Dasgupta) বলেন, “দলটাকে দালাল শেষ করে দিলো। সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের ত্রুটির কারণেই আজ দলটার এই পরিস্থিতি। রাজনীতিটাকে কেউ যদি ব্যবসায় পরিণত করবে বলে মনে করে, সেই দলের অবস্থা এ রকমই হবে। আজ থেকে আমি দলের সমস্ত পদ ছাড়লাম।” তবে তিনি এখনই অন্য কোনও দলে যোগ দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেননি। বরং কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
কেনো ছাড়লেন দল ?
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তপন দাশগুপ্তকে প্রার্থী করেনি তৃণমূল। তাঁর দাবি, তিনি সপ্তগ্রামের বদলে পাণ্ডুয়া কেন্দ্র থেকে লড়তে চেয়েছিলেন। কিন্তু দল তাঁকে টিকিট দেয়নি। তাঁর কথায়, পুরনো কর্মীদের গুরুত্ব না দেওয়ার ফলেই রাজ্যে দলের ভরাডুবি হয়েছে। মানুষের মধ্যে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। মূলত সেই ক্ষোভ বশতই দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তবে দল ছাড়লেও তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে থাকবেন বলেই জানিয়েছেন।
যখন রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়ে জোর আলোচনা চলছে সেই সময়ে এই প্রবীণ অভিজ্ঞ নেতার ইস্তফা ফের নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।


