মুর্শিদাবাদ: ‘ঠেলায় পড়ে’ অবশেষে শক্তিপুর থানায় হাজিরা দিয়েছেন ‘স্যাটাভাঙা’ হুমায়ুন (Humayun Kabir)। কাশীপুরের জনসভায় দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, “কেস হবে? ওরকম কেস আমাদের বিরুদ্ধে অনেক আছে” সেই মন্তব্যের পর থেকে আইনি চাপ যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না আমজনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের। রবিবার শক্তিপুর থানায় ৫ ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চিফ হুমায়ুন কবিরকে।
থানা থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “৮ মে দলের কর্মিসভায় শক্তিপুর থানার ওসির বিরুদ্ধে ফাউল কথাবার্তা বলেছিলাম। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই আমার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আজ পুলিশ অফিসাররা আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন, আমি সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি।” এরপর ‘উস্কানিমূলক মন্তব্যের’ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে হুমায়ুনের (Humayun Kabir) সংক্ষিপ্ত জবাব, “পাস্ট ইজ পাস্ট। কখন কী বলেছিলাম, সেটা বড় কথা নয়।”
প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুন রেজিনগরের কাশীপুরে “মুসলমানদের জড়ো করে এমন স্যাটাভাঙা মার শুরু করব, যে পতাকা বওয়ার লোক পাবে না”! পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, “আমার মাথা যেদিন গরম হয়ে যাবে, সেদিন আমি এসপি, চিফ মিনিস্টার, এসব কিছু বুঝব না।” শুধু তাই নয়, ‘কেস হবে? ওরকম কেস আমাদের বিরুদ্ধে অনেক আছে”, বলেছিলেন হুমায়ুন (Humayun Kabir)।
এরপর বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আল্টিমেটামের পর রেজিনগর ও শক্তিপুর দুই থানা থেকেই হুমায়ুনকে হাজিরার নোটিশ পাঠানো হয়। ৪ জুলাই রেজিনগর থানায় হাজিরা দিলেও ৩ জুলাই শক্তিপুরের হাজিরা এড়িয়ে যান তিনি। সেইসঙ্গে প্রকাশ্যে আসে ৮ মে দলের কর্মিসভায় শক্তিপুরের ওসিকে নিয়ে হুমায়ুনের ‘কুকথা’ বলার ভিডিও। যেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “ওসি যেখানে যাচ্ছে সেখানেই বলছে, আমার বাপ এসেছে! আজ যাচ্ছি না। তবে এসপিকে জানিয়ে শক্তিপুর থানায় হাজির হব। আমার নতুন বাবার সঙ্গে দেখা করতে যাব! প্রয়োজনে মাকেও নিয়ে যাব। তাঁর স্বামীকে চিনতে পারেন কি না, দেখব।”
হুমায়ুনের (Humayun Kabir) এই ‘রাওডি’ আচরণ আর চলবে না বলে সাফ হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গত ১৪ জুলাই ফের তাঁকে শক্তিপুর থানায় হাজিরার নোটিশ পাঠানো হয়। রবিবার হাজিরার পর হুমায়ুনের মন্তব্যে অনেকেই মনে করছেন, চাপে পড়ে অবশেষে ‘সুর নরম’ করেছেন তিনি। যদিও আনুষ্ঠানিক কোনও ক্ষমাপ্রার্থনা করেননি হুমায়ুন।


