Aaj India Desk, কলকাতা: প্রস্তাবিত সীমানা পুনর্নির্ধারণ (Delimitation) বিল এবং বৈদেশিক অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন (FCRA) সংশোধনী বিলকে “স্বৈরাচারী” ও “গণতন্ত্রবিরোধী” বলে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন (Derek O’Brien)। এই দুই গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে অবিলম্বে একটি সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার দাবি জানিয়েছেন।
রবিবার প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো চিঠিতে ডেরেক অভিযোগ করেন, বিজেপি সরকার বারবার সংসদীয় রীতি ও নিয়ম ভঙ্গ করছে। তাঁর দাবি, আসন্ন বাদল অধিবেশনের সরকারি কাজের তালিকায় ডিলিমিটেশন বিলের কোনও উল্লেখ নেই। কিন্তু সরকার যে হঠাৎ করে বা “পিছনের দরজা দিয়ে” এই বিল সংসদে আনবে না, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই।
এই প্রসঙ্গে তিনি ২০১৯ সালের জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্গঠন বিলের উদাহরণ দেন। ডেরেকের অভিযোগ, সেই বিলটি সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল এবং সাংসদদের হাতে পৌঁছানোর মাত্র ১১ মিনিটের মধ্যেই রাজ্যসভায় পেশ করা হয়েছিল। তিনি একে সংসদীয় রীতিনীতির চরম অবমাননা বলে উল্লেখ করেন।
চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক করে ডেরেক লেখেন, কৃষি বিলের ক্ষেত্রে যেভাবে সরকার পরে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল, সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। তাঁর মতে, এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একতরফাভাবে আইন আনার চেষ্টা না করে আগে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করা দরকার।
ডিলিমিটেশন বিল নিয়ে তিনি বলেন, এটি শুধু একটি প্রশাসনিক বিষয় নয়, বরং ভারতের রাজনৈতিক কাঠামো ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত। তাই এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গোপনে বা হঠাৎ করে আনা উচিত নয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত ১৬ এপ্রিল লোকসভায় সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিল ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সংক্রান্ত বিলের সঙ্গে ডিলিমিটেশন বিলও আনা হয়েছিল। কিন্তু ১৭ এপ্রিল প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সেটি খারিজ হয়ে যায়।
অন্যদিকে, FCRA সংশোধনী বিল নিয়েও তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ডেরেক। তাঁর দাবি, এই বিল লোকসভায় পাস হলে দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান বড় সংকটে পড়বে। বিশেষ করে বহু বছর ধরে দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের সেবা করে আসা সংস্থাগুলি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
চিঠিতে তিনি বলেন, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের পরিচালিত প্রায় ৫৪ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতি বছর জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে প্রায় ছয় কোটি ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করে। এই বিলের মাধ্যমে সেবামূলক সংস্থাগুলির উপর সরকারের অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ চাপানোর চেষ্টা হচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ।
ডেরেকের মতে, এই প্রস্তাবিত সংশোধনী সংবিধানের ১৯ ও ২৬ নম্বর অনুচ্ছেদে থাকা মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত বহু দাতব্য ও সমাজসেবামূলক সংস্থাও এই আইনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সবশেষে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন, কোনও তাড়াহুড়ো বা একতরফা সিদ্ধান্ত না নিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো ও সংবিধান রক্ষার স্বার্থে দ্রুত একটি সর্বদলীয় বৈঠক ডাকতে।


