Aaj India Desk, উত্তর ২৪ পরগনা : দেশজুড়ে সাইবার প্রতারণায় ব্যবহৃত সিম কার্ড সরবরাহের (SIM Card Fraud) অভিযোগ উঠল উত্তর ২৪ পরগনার বাগদায়। সেই অভিযোগের তদন্তে এক বিক্রেতা এজেন্টকে গ্রেপ্তার করেছে বনগাঁ সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ। ধৃতের নাম মজনু মণ্ডল ওরফে সুজন (৪০)। তাঁর কাছ থেকে ২৫টি সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় সিম কার্ড, দুটি মোবাইল ফোন, আঙুলের ছাপ নেওয়ার মেশিন-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি ও সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
এনসিআরপি অভিযোগের সূত্র ধরে তদন্ত
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টাল (NCRP)-এ নথিভুক্ত সাইবার অপরাধের অভিযোগগুলি বিশ্লেষণ করতে গিয়েই তদন্তকারীদের নজরে আসে নির্দিষ্ট এক সিম বিক্রেতা এজেন্টের নাম। এরপর শুরু হয় অনুসন্ধান।তদন্তকারীদের দাবি, ওই এজেন্টের কাছ থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সংঘটিত সাইবার অপরাধে ব্যবহৃত একাধিক সিম কার্ড ইস্যু করা হচ্ছিল। সেই সূত্র ধরেই বাগদার বেয়াড়া এলাকার বাসিন্দা মজনু মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়। (SIM Card Fraud)
জাল নথিতে সিম ইস্যুর অভিযোগ
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ, প্রতারকদের সুবিধা করে দিতে পরিকল্পিতভাবে সিম কার্ড ইস্যু করতেন অভিযুক্ত। জাল নথি ব্যবহার করে সিম নেওয়া, আবার সাধারণ মানুষকে ভুল বুঝিয়ে তাঁদের পরিচয়পত্রে সিম কার্ড ইস্যু করিয়ে তা পরে প্রতারকদের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।তদন্তকারীদের দাবি, ওই সিম কার্ডগুলি ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাইবার প্রতারণা চালানো হত।(SIM Card Fraud)
বাড়িতে তল্লাশি করে মিলল একাধিক সামগ্রী
অভিযুক্তের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ২৫টি সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় সিম কার্ড। এছাড়াও দুটি মোবাইল ফোন, আঙুলের ছাপ নেওয়ার মেশিন এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ও সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীগুলি খতিয়ে দেখে সিম ইস্যু এবং সম্ভাব্য সাইবার অপরাধের মধ্যে যোগসূত্র আরও স্পষ্ট করার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
চক্রে আরও চারজনের খোঁজ
পুলিশের দাবি, এই সিম সরবরাহ চক্রের সঙ্গে আরও চারজন ব্যক্তি যুক্ত রয়েছে। তাদের পরিচয় সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলে তদন্তকারীদের দাবি। তবে অভিযুক্ত ওই চারজন বর্তমানে পলাতক। তাদের সন্ধানে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চক্রটির কার্যপদ্ধতি এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাইবার প্রতারণার সঙ্গে এর যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে বনগাঁ, গোপালনগর এবং উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্তবর্তী এলাকায় জাল নথি, প্রি-অ্যাক্টিভেটেড সিম এবং বায়োমেট্রিক মেশিন ব্যবহার করে সিম সরবরাহের অভিযোগ এর আগেও সামনে এসেছে। বিভিন্ন তদন্তে বিপুল সংখ্যক সিম উদ্ধারের ঘটনাও ঘটেছে। ফলে বাগদার এই ঘটনা তদন্তকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


