Aaj India Desk, নয়াদিল্লি: লোকসভায় ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল পাস করাতে ব্যর্থ হল কেন্দ্র সরকার। গত ১২ বছরে সংসদে এই প্রথম বড় ধাক্কা খেল। এই ঘটনার পরই বিরোধীদের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে রাজনৈতিক পাল্টা প্রচারের রণকৌশল নিতে শুরু করেছে বিজেপি (BJP)। বিশেষ করে মহিলা সংরক্ষণ বিলের বিরোধিতাকে সামনে এনে কংগ্রেস (Congress)-সহ বিরোধী দলগুলিকে নিশানা করা হবে বলে সূত্রের খবর। প্রচারের মূল ফোকাস রাখা হচ্ছে নির্বাচনমুখী পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) ও তামিলনাড়ু (Tamilnadu)-কে।
জানা গিয়েছে, শুক্রবার ১৭ এপ্রিল লোকসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিল তুলেছিল কেন্দ্র। কিন্তু প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন না মেলায় বিলটি পাস হয়নি। এই ফল প্রকাশ্যে আসার পরই এনডিএ সংসদীয় দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন(Nitin Nobin)-ও। অন্যদিকে, বিল পাস না হওয়ার পরপরই সংসদ চত্বরে প্রতিবাদে নামেন বিজেপির মহিলা সাংসদরা। হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে তারা বিক্ষোভ মিছিল করেন।
দলীয় সূত্রে খবর, এবার এই ঘটনাকেই রাজনৈতিক ইস্যু করে বিরোধী দলগুলির বিরুদ্ধে মাঠে নামবে বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুতে বিশেষ জোর দেওয়া হবে। বিজেপির বার্তা থাকবে-মহিলাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর পথে বাধা দিচ্ছে বিরোধীরা, অর্থাৎ নারী ক্ষমতায়নের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়েছে তারা। এই বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে দুই রাজ্যের সাংসদদেরও আলাদা করে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মহিলা আসন সংরক্ষণ ইস্যুতে বিজেপির প্রচারের জবাব দিতে এবার সক্রিয় হচ্ছে বিরোধী শিবিরও। নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে জনতার সামনে তুলে ধরতে আলাদা আলাদা ভাবে প্রচারের রণকৌশল নিচ্ছে বিভিন্ন বিরোধী দল। তবে এনডিএ-র মতো একত্রে বৈঠকে বসে যৌথ পরিকল্পনা করার পথে আপাতত হাঁটছে না তারা। প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়েছে, যে যার রাজ্যে নিজস্ব সংগঠন ও রাজনৈতিক অবস্থান অনুযায়ী প্রচার চালাবে।
বিরোধীদের মূল বার্তা হবে, তারা মহিলা সংরক্ষণের বিরোধিতা করেনি; আপত্তি ছিল ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব নিয়ে। তাদের দাবি, ২০২৩ সালে যেমন মহিলা সংরক্ষণ বিলকে সমর্থন জানানো হয়েছিল, এখনও সেই অবস্থানেই অটল রয়েছে বিরোধী জোট।
লোকসভায় ভোটাভুটির পর বুধবার রাতেই ফোনে কথা হয় তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীর। প্রথমে সিদ্ধান্ত ছিল তৃণমূলের ১০ জন সাংসদ অধিবেশনে উপস্থিত থাকবেন। পরে সূত্রের খবর, রাহুল গান্ধীর অনুরোধে সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ২১ করা হয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও ডিএমকে নেতা এমকে স্ট্যালিন, এনসিপি নেতা শরদ পওয়ার, শিবসেনা (উদ্ধব গোষ্ঠী) প্রধান উদ্ধব ঠাকরে-সহ একাধিক বিরোধী নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করেন রাহুল গান্ধী। লোকসভার ভিতরে ইন্ডিয়া জোটের এই সমন্বিত ফ্লোর ম্যানেজমেন্ট ভবিষ্যতে বৃহত্তর বিরোধী ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।


