Aaj India Desk, মুর্শিদাবাদ : তদন্তে দীর্ঘসূত্রিতা ও আইনি সময়সীমা লঙ্ঘনের জেরে বড় ধাক্কা খেল NIA (National Investigation Agency)। বেলডাঙা অশান্তি মামলায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চার্জশিট জমা দিতে না পারায় শনিবার ১৫ জন অভিযুক্তকে জামিন দিল বিশেষ আদালত।
গত জানুয়ারিতে ঝাড়খণ্ডে মুর্শিদাবাদের শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই বেলডাঙায় উত্তেজনা ছড়ায়। স্থানীয়রা প্রতিবাদে রাস্তায় নামে। সেই বিক্ষোভের জেরে রেল অবরোধ, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর এবং সংবাদমাধ্যমের উপর হামলার ঘটনা ঘটে। জ্বলন্ত বেলডাঙায় প্রথমে রাজ্য পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও পরে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে তদন্তভার নেয় NIA (National Investigation Agency)।
চার্জশিট না দেওয়ায় জামিন
আইন অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে চার্জশিট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু ৯০ দিন পেরিয়েও NIA চূড়ান্ত চার্জশিট জমা দিতে পারেনি। আদালতে তদন্তের অগ্রগতি নিয়েও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেনি সংস্থা। এই পরিস্থিতিতে অভিযুক্তদের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করে।
কী কী শর্তে জামিন ?
তবে জামিন পেলেও অভিযুক্তদের উপর একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে আদালত।
- আপাতত কলকাতা পৌরসভার এলাকা ছেড়ে যেতে পারবেন না
- মামলার প্রতিটি শুনানিতে আদালতে হাজিরা দিতে হবে
বেলডাঙা থেকে কলকাতায় অভিযুক্তদের বারবার আনা-নেওয়া নিয়ে আগে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতি এড়াতেই আদালত এই শর্ত জারি করেছে। এই মামলায় মোট ৩৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তার মধ্যে ১৫ জন জামিন পেলেও বাকি ২০ জন এখনও জেল হেফাজতেই রয়েছেন।
কেনো ব্যর্থ NIA ?
তদন্তের শুরু থেকেই NIA এবং রাজ্য প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবের অভিযোগ ওঠে। NIA আদালতে জানায়, তারা কেস ডায়েরি পাচ্ছে না। অন্যদিকে জেল কর্তৃপক্ষ জানায়, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না থাকায় অভিযুক্তদের নিয়মিত আদালতে তোলা সম্ভব হচ্ছিল না। পরে কেস ডায়েরি পাওয়া সত্ত্বেও নির্ধারিত সময়ে চার্জশিট জমা না পড়ায় NIA এর তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে চার্জশিট জমা দেওয়া তদন্তকারী সংস্থার অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। সেই সময়সীমা অতিক্রম হওয়ার পরও যদি তদন্ত সম্পূর্ণ না হয় বা আদালতে গ্রহণযোগ্য অগ্রগতি দেখানো না যায়, তাহলে তা শুধু আইনি প্রক্রিয়াকেই দুর্বল করে না, বরং গোটা তদন্তের বিশ্বাসযোগ্যতাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলে। বেলডাঙার মতো সংবেদনশীল ও বৃহৎ অশান্তির ঘটনায় এই ধরনের বিলম্ব স্বাভাবিকভাবেই আরও বেশি নজর কাড়ে। আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সময়সীমা মেনে চার্জশিট না দেওয়ার ফলে অভিযুক্তদের ‘ডিফল্ট বেল’ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়, যা তদন্তের কৌশলগত দিক থেকেও একটি বড় ধাক্কা।
সব মিলিয়ে, এই বিলম্ব শুধু একটি আইনি ত্রুটি নয়, বরং তদন্তের গতি, সমন্বয় এবং পেশাদারিত্ব নিয়ে বৃহত্তর আলোচনার জন্ম দিচ্ছে। বিশেষ করে এমন একটি ঘটনায়, যেখানে জনশৃঙ্খলা, নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব সবকিছুই একসঙ্গে জড়িত, সেখানে সময়মতো তদন্ত সম্পন্ন করা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা আবারও সামনে চলে এসেছে।


