Aaj India Desk, কলকাতা : একুশে জুলাই এবার আর শুধুমাত্র শহীদ স্মরণে রাজনৈতিক প্রচারে আটকে নেই। এবার শহীদ দিবস প্রকৃতপক্ষে ত্রিবিভক্ত তৃণমূলের শক্তি যাচাইয়ের দিন। একদিকে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী (Mamata Banerjee) শিবিরের সভা, অন্যদিকে মেয়ো রোডে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী শিবিরের পৃথক কর্মসূচি। সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু কর্মী-সমর্থককে বিড়লা তারামণ্ডলের সভাস্থলের উদ্দেশে রওনা দিতে দেখা যায়।
সকাল থেকেই সভামুখী কর্মী-সমর্থক
ট্রেন, বাস এবং মেট্রো বিভিন্ন গণপরিবহণে করে কর্মী-সমর্থকদের সভায় পৌঁছতে দেখা যায়। ময়দান মেট্রো স্টেশন জয় বাংলা স্লোগানে মুখরিত। তাঁরা জানান, তাঁদের গন্তব্য বিড়লা তারামণ্ডলের সভা। কর্মী-সমর্থকদের একাংশের বক্তব্য, তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নেতৃত্বের প্রতিই আস্থা রাখেন এবং অন্য শিবিরের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কোনও প্রশ্ন নেই।
মেয়ো রোডে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী কর্মসূচির স্থানেও কয়েক জন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকের উপস্থিতি দেখা যায়। তাঁদের দাবি, মূল উদ্দেশ্য ছিল বিড়লা তারামণ্ডলের সভায় যাওয়া। তবে কৌতূহলবশত তাঁরা কিছু সময়ের জন্য মেয়ো রোডে এসেছিলেন।
মমতার সমর্থনে কর্মীদের বক্তব্য
সভাস্থলে উপস্থিত কয়েক জন কর্মী-সমর্থক বলেন, “প্রতীক একটাই, নাম একটাই, নেত্রী একটাই— মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।” অন্য একাংশের বক্তব্য, “দিদির সভায় যাচ্ছি। দিদি ছাড়া অন্য কিছু বুঝি না। অন্য শিবিরের সভায় যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।” এবার একজন ঋতব্রত শিবিরকে কটাক্ষ করে বলেন, “ওটা কোনো সভা নাকি? ওটা চোরদের সভা আর এটা নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা।”
অন্যদিকে, ঋতব্রতপন্থী শিবিরের আয়োজিত সভায় উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম দেখা যায়। বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী (Mamata Banerjee) কর্মসূচিতে সকাল থেকেই কর্মী-সমর্থকদের ভিড় চোখে পড়ে। দুই শিবিরের পৃথক সমাবেশের এই উপস্থিতির পার্থক্য রাজনৈতিক মহলেও নানা আলোচনা উসকে দিয়েছে। এই কর্মসূচিতে এটা স্পষ্ট যে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের বড় অংশের আস্থা এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের প্রতিই রয়েছে। এবার আগামী দিনে এই সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয় সেটাই দেখার।


