কলকাতা: ক্ষমতা হারানোর পর প্রথম ২১ জুলাই। আদালতের অনুমতি নিয়ে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে শহিদ দিবসের সভা থেকে বিজেপি ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরকে একযোগে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। একইসঙ্গে শহিদ পরিবারগুলির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি দাবি করলেন, “এত প্রলোভন, এত টাকার প্রস্তাব পেয়েও শহিদ পরিবারের মানুষ এই মঞ্চে এসেছেন। তাঁদের আমি কুর্নিশ জানাই।”
সভার শুরুতেই কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে আবেগঘন বার্তা দেন মমতা। তিনি বলেন, “আমি ক্ষমা চাইছি। কোনও ছেলে-মেয়েকে থাকার জায়গা করে দিতে পারিনি, বাস দিতে পারিনি, ট্রেনের টিকিট দিতে পারিনি। তবুও আপনারা এসেছেন।” তাঁর কথায়, ক্ষমতায় না থাকলেও মানুষের ভালোবাসাই তৃণমূলের সবচেয়ে বড় শক্তি।
‘২২ জন তৃণমূল কর্মী খুন’
ভোট-পরবর্তী হিংসার প্রসঙ্গ তুলে মমতা (Mamata Banerjee) দাবি করেন, বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর ২২ জন তৃণমূল কর্মী খুন হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, বহু কর্মীর উপর হামলা হয়েছে, এমনকি মহিলাদের উপরও অত্যাচারের ঘটনা ঘটেছে। যদিও এই দাবির বিষয়ে প্রশাসনের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
‘সভা ভাঙতে বাইক বাহিনী পাঠানো হয়েছিল’
২১ জুলাইয়ের সভা বানচালের চেষ্টার অভিযোগও তোলেন তৃণমূল নেত্রী (Mamata Banerjee)। তাঁর দাবি, শনিবার রাত থেকেই পরিকল্পিতভাবে হামলার চেষ্টা চলে। “রাত ১০টায় স্টেজ ভেঙে দেওয়া হয়। মাইকের তার কেটে দেওয়া হয়েছিল। প্রায় ৬০০ জনের বাইক বাহিনী পাঠানো হয়েছিল। আইটি সেল ও ছাত্র-যুব কর্মীরা প্রাণ দিয়ে লড়াই করেছে,” বলেন তিনি। আরও অভিযোগ, রাতভর ছুরি ও বন্দুক নিয়ে হামলা চালানো হয়েছে এবং সাউন্ড সিস্টেমের তার কেটে দেওয়া হয়েছে।
‘আমাকেও বাড়িতে আটকানোর চেষ্টা হয়েছিল’
মমতার (Mamata Banerjee) অভিযোগ, শুধু সভাস্থল নয়, তাঁকেও বাড়ি থেকে বেরোতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। তাঁর কথায়, “গতকাল রাতে হামলা হলেও পুলিশ ছিল না। আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও পুলিশ কাজ করেনি। পুলিশের দোষ নেই, এখন সরকার দায়ী। আমাকেও বাড়িতে আটকানোর চেষ্টা হয়েছিল।” যদিও কারা এই চেষ্টা চালিয়েছিল, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও তথ্য দেননি তিনি।
বিজেপিকে ‘তারকাটা পার্টি’, ঋতব্রত শিবিরকে সরাসরি আক্রমণ
সভামঞ্চ থেকে বিজেপিকে নিশানা করে মমতা বলেন, “বিজেপি তারকাটা পার্টি।” একইসঙ্গে দলত্যাগীদেরও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের উদ্দেশে তাঁর মন্তব্য, “দল না ভাঙিয়ে সরাসরি বিজেপিতে যান। আমার হাতে অনেক লোক আছে। সবাই চলে গেলেও আমার কোনও আক্ষেপ নেই। ছাত্র-যুব সব তৈরি আছে।”
‘আমি জেলায় জেলায় বের হব’
রাজনৈতিক লড়াইয়ের বার্তা দিয়ে মমতা ঘোষণা করেন, এবার তিনি জেলা সফরে বের হবেন। তাঁর কথায়, “এরপর আমি জেলায় জেলায় বের হব। কত ক্ষমতা আছে দেখতে চাই। আপনারা বালিশের কোলে ইঁদুরের মতো লুকিয়ে থাকেন, আর আমরা সুন্দরবনের বাঘের বাচ্চার মতো লড়াই করি।”
আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞতা
এদিন সভার অনুমতি দেওয়ার জন্য কলকাতা হাই কোর্টের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তৃণমূল নেত্রী (Mamata Banerjee)। তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশেই এদিনের কর্মসূচি আয়োজন করা সম্ভব হয়েছে।


