Aaj India Desk, কলকাতা : বাঙালি কি খাবে, তার নির্দেশ দেবে বাইরে থেকে আগত সাধুবাবা ? সম্প্রতি এমনই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে রাজ্যে। বাগেশ্বর বাবা দুর্গাপুজোর সময় মণ্ডপের আশপাশে মাছ-মাংস না খাওয়ার আবেদন করার পর সেই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় তীব্র বিতর্ক। সেই বিতর্কে এবার মুখ খুললেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, বাঙালির খাদ্যাভ্যাস নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার বাঙালিরই। বাগেশ্বর বাবার আবেদনকে তিনি অস্বীকার না করলেও সেটি মেনে নেওয়া বাধ্যতামূলক নয় বলেই জানিয়েছেন।
শমীক ভট্টাচার্যের (Shamik Bhattacharya) বক্তব্য, একজন ধর্মগুরু তাঁর ব্যক্তিগত মতামত বা আবেদন জানাতে পারেন। কিন্তু সেই মত বাংলার মানুষ গ্রহণ করবেন কি না, তা সম্পূর্ণ তাঁদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। কোনও সাধু বা রাজনৈতিক দল বাঙালির বাড়িতে কী খাবার থাকবে, তা নির্ধারণ করতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। শমীকের কথায়, “বাংলার মানুষ কী খাবেন, কী খাবেন না সেটা বলার অধিকার নেই। উনি ওঁর মত বলতেই পারেন। কিন্তু সেটা আমরা মানব কি না, সেটা আমাদের ব্যাপার।”
বাঙালির প্রচলিত খাদ্যাভ্যাসের প্রসঙ্গও তোলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তিনি বলেন, “নবমীতে বাঙালি পাঁঠার মাংস খায়। আর অষ্টমীতে লুচি খায়। সেইটাই খাবে।” তবে বাগেশ্বর বাবার প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত শ্রদ্ধার কথাও জানিয়েছেন শমীক। তিনি জানান, বাগেশ্বর বাবার সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছে এবং তিনি তাঁকে নমস্কার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, বাগেশ্বর বাবার দেশজুড়ে বহু ভক্ত রয়েছেন এবং তিনি নিজের বিশ্বাস ও মত অনুযায়ী আবেদন করতেই পারেন।
খাদ্যাভ্যাস নিয়ে ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব বা রাজনৈতিক সংগঠনের নির্দেশ দেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)। তাঁর বক্তব্য, কেউ নিরামিষ খাওয়ার পক্ষে প্রচার চালাতে পারেন, চিকিৎসকরাও স্বাস্থ্যগত কারণে নিরামিষ খাবারের কথা বলতে পারেন। কিন্তু কোনও ব্যক্তির ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাস নির্ধারণের সিদ্ধান্ত তাঁর নিজের হওয়া উচিত। এই প্রসঙ্গে তিনি স্বামী বিবেকানন্দের উল্লেখ করেন। শমীক বলেন, “আপনি আপনার বাড়িতে কী খাবেন সেটা কোনও সাধু নির্ধারিত করবে? রাজনৈতিক দল ঠিক করবে? বাঙালি মাংস খাবে না? মাছ খাবে না?”
সম্প্রতি দুর্গাপুজোর সময় মণ্ডপের আশপাশে মাছ-মাংস না খাওয়ার জন্য বাংলার মানুষকে নিধান দিয়েছিলেন বাগেশ্বর বাবা। তাঁর সেই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই সামাজিক মাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে নানা মত দেখা যায়। দুর্গাপুজোর মতো বাঙালির অন্যতম প্রধান উৎসবে খাদ্যাভ্যাস নিয়ে বাইরে থেকে কোনও নির্দেশ আসায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে নেটপাড়ায়। এই বিতর্কের মধ্যেই শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য সামনে এলো। তবে শমীক ভট্টাচার্যের এই অবস্থানকে ঘিরে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। এটি কি আদৌ খাদ্যাভ্যাসের স্বাধীনতার প্রশ্ন, নাকি বাগেশ্বর বাবার মন্তব্য ঘিরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক অস্বস্তি সামাল দেওয়ার চেষ্টা? একদিকে শমীকের ধর্মীয় আবেদনের প্রতি সম্মান, অন্যদিকে বাঙালির প্রচলিত খাদ্যসংস্কৃতির পক্ষে সওয়াল, এই দুই অবস্থানের মধ্যে ভারসাম্য রেখে বিতর্কটি ‘ম্যানেজ’ করার বিজেপির সুচারু কৌশল হিসেবেই দেখছেন অনেকে।


