28 C
Kolkata
Monday, September 7, 2026
spot_img

খাদ্য সুরক্ষা অভিযানের আড়ালে ছড়াচ্ছে আমিষ নিয়ে আতঙ্ক? কী মনে করছেন জনসাধারণ?

Aaj India Desk, কলকাতা : শহরজুড়ে চলছে ‘কনজিউমার সেফটি উইক’-এর অভিযান (Food Safety Raid)। রেস্তোরাঁ থেকে বাজার, মিষ্টির দোকান থেকে রাস্তার খাবারের দোকান — খাদ্যের মান যাচাইয়ে একের পর এক জায়গায় হানা দিচ্ছে প্রশাসন। কোথাও বাসি মাংস, কোথাও মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবার, কোথাও আবার ক্ষতিকর রঙ বা অপরিচ্ছন্নতার অভিযোগ সামনে আসছে। কিন্তু এই ধারাবাহিক অভিযানের মধ্যেই উঠছে অন্য প্রশ্ন। খাদ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করাই কি এই অভিযানের একমাত্র লক্ষ্য, নাকি এর জেরে বাইরে খাওয়া এবং বিশেষ করে মাছ-মাংস নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি করা হচ্ছে অতিরিক্ত আতঙ্ক ?

গড়িয়াহাটে ফের অভিযান

সোমবার গড়িয়াহাট বাজারে খাদ্য সুরক্ষা অভিযান (Food Safety Raid) চালানো হয়। অভিযোগ, কয়েকটি জায়গায় ফ্রোজেন চিকেন ও মাটনে প্রয়োজনীয় ডেট ট্যাগ ছিল না। প্রায় ১০-১৫ কেজি পণ্য জব্দ করে নষ্ট করা হয়েছে। মাছের নমুনাও পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, খাদ্যের নিরাপত্তা নিয়ে কোনওরকম আপস করা হবে না। সেই কারণেই বাজার থেকে রেস্তোরাঁ সব ক্ষেত্রেই নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

শুধু মাছ-মাংস নয়, নজরে সব খাবার

অভিযান (Food Safety Raid) অবশ্য শুধু আমিষ খাবারে সীমাবদ্ধ নয়। মিষ্টিতে ব্যবহৃত রং, ছানা, দুধ-দই, তেল, সবজি, বেকারি পণ্য এবং প্যাকেজড ওয়াটারও পরীক্ষার আওতায় রয়েছে। কোথাও পচা দুধ, কোথাও ক্ষতিকর রঙের ব্যবহার, আবার কোথাও মাছি-আরশোলা বা সঠিক লেবেল ছাড়া খাবার সংরক্ষণের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। নিয়মভঙ্গের ক্ষেত্রে নোটিশ, দোকান বন্ধ করা কিংবা লাইসেন্স বাতিল বা স্থগিত করার মতো পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে।

এখানেই তৈরি হচ্ছে বিতর্কের জায়গা। অভিযানে যে প্রতিষ্ঠানগুলিতে অনিয়ম ধরা পড়ছে, তাদের নাম প্রকাশ্যে আসছে। কিন্তু যেসব দোকান বা রেস্তোরাঁ পরীক্ষায় নিরাপদ প্রমাণিত হচ্ছে, তাদের বিষয়ে একইভাবে মানুষকে জানানো হচ্ছে না। যদিও দপ্তরের বক্তব্য, সেগুলি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে। কিন্তু সাধারণ মানুষ বারবার আদৌ ওয়েবসাইট খুলে তা দেখবেন কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন একাধিক রেস্তোরাঁর মালিকপক্ষ। তাঁদের অভিযোগ, ধারাবাহিকভাবে খারাপ খাবারের ছবি ও খবর সামনে আসায় সাধারণ মানুষের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হতে পারে যে বাইরে কোথাও মাছ-মাংস খাওয়াই নিরাপদ নয়। অথচ কোনও নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে সেই তথ্যও প্রকাশ্যে এলে ছবিটা আরও ভারসাম্যপূর্ণ হতে পারে।

আর এখানেই আরও একটি প্রশ্ন সামনে আসছে—যদি অভিযানের পর বারবার বাসি বা নিম্নমানের মাছ-মাংসের খবর সামনে আসে, তাহলে কি সাধারণ মানুষের মনে ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে এমন ধারণা তৈরি হচ্ছে যে বাজারের প্রায় সব আমিষ খাবারই অনিরাপদ? বিশেষ করে দুর্গাপুজোর আগে যখন আমিষ বনাম নিরামিষ খাবার নিয়ে আলাদা করে সামাজিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তখন খাদ্য সুরক্ষা অভিযানের এই ধারাবাহিকতা তাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ফলে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, এই খাদ্য সুরক্ষা অভিযান কি সত্যিই শুধুমাত্র খাদ্যের গুণমান বজায় রাখার পদক্ষেপ নাকি আমিষ নিরামিষ বিতর্কে মানুষকে প্রভাবিত করার একটি দুর্দান্ত উপায়?

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন