Aaj lndia Desk, কলকাতা: একদিকে শিক্ষার প্রসার, অন্যদিকে এখনও সমাজের একটা অংশে রয়ে গিয়েছে বাল্যবিবাহের মতো গুরুতর সমস্যা। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সামনে আসছে অল্প বয়সে গর্ভধারণের ঘটনাও। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসের পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবার প্রশাসনিক নজরদারির পাশাপাশি আইনি পদক্ষেপ আরও জোরদার করার কথা জানানো হয়েছে।
ছয় মাসেই প্রায় ৬৭ হাজার নথিভুক্ত ঘটনা
স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত রাজ্যে প্রায় ৬৭ হাজার নাবালিকার গর্ভধারণ এবং হাসপাতালে প্রসবের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। জেলা ভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি সংখ্যা মুর্শিদাবাদে। সেখানে এমন ঘটনার সংখ্যা ১২,৮৪৭। দ্বিতীয় স্থানে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, যেখানে নথিভুক্ত হয়েছে ৪,১৭৮টি ঘটনা। পূর্ব বর্ধমানে সংখ্যাটি ৩,৭৭৭।
এছাড়াও তালিকায় রয়েছে মালদহ, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং উত্তর দিনাজপুর। স্বাস্থ্য দফতরের নথিতে মূলত ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরীদের ঘটনাই বেশি। তবে ১০ থেকে ১৩ বছর বয়সী মেয়েদের প্রসবের ঘটনাও নজরে এসেছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করছে।
বিয়ের পর স্বামীদের পাঠানো হচ্ছে নোটিস
বাল্যবিবাহের ঘটনায় এবার সরাসরি নাবালিকার স্বামীদেরও জবাবদিহির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য দফতরের মাধ্যমে তাঁদের শোকজ নোটিস পাঠানো হচ্ছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্ত্রী যে বিয়ের সময় প্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন, তার যথাযথ নথি দেখাতে না পারলে POCSO আইনে মামলা হতে পারে।
নাবালিকার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে POCSO আইনের কঠোর বিধান কার্যকর হয়। পাশাপাশি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইনেও শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে।
শুধু স্বামী নয়, বিয়েতে সহযোগীদেরও সতর্কবার্তা
প্রশাসনের নজর এবার বাল্যবিবাহ সম্পন্ন করাতে সাহায্য করা ব্যক্তিদের দিকেও। পুরোহিত কিংবা কাজির মাধ্যমে নাবালিকার বিয়ে সম্পন্ন হলে তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এমনকি পরিস্থিতি অনুযায়ী জেলের মুখেও পড়তে হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
সরকারি সুবিধা নিয়েও বড় বার্তা
বাল্যবিবাহের মতো অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে দোষ প্রমাণিত হলে সরকারি ভাতা, আর্থিক অনুদান কিংবা অন্যান্য সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে। অর্থাৎ সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি সরকারি সুবিধা নিয়েও কড়া অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে।
সরকারের বক্তব্য, এতদিন সচেতনতা কর্মসূচির মাধ্যমে বাল্যবিবাহ বন্ধের চেষ্টা চললেও এবার তার পাশাপাশি মাঠে নামবে প্রশাসন ও পুলিশ। বাড়ি বাড়ি নজরদারি, তথ্য যাচাই এবং প্রয়োজন হলে মামলা এই পথেই নাবালিকা বিয়ে ও অল্প বয়সে মাতৃত্বের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।


