নয়াদিল্লি: ‘তৃণমূল কংগ্রেস কারও বাপের সম্পত্তি নয়!’ নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর ফের বিস্ফোরক মন্তব্য রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee)। তৃণমূলের প্রতীক (TMC symbol) নিয়ে দুই শিবিরের টানাপোড়েন যখন চরমে, ঠিক তখনই কালীঘাটের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশানা করে ঋতব্রতের এই মন্তব্যে নতুন করে চড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ।
শনিবার চূড়ান্ত শুনানির আগে নির্বাচন কমিশনের দফতরে প্রায় ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট বৈঠক করে ঋতব্রত শিবির। ‘আসল’ তৃণমূলের তরফে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee) সঙ্গে ছিলেন অরূপ রায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, আখরুজ্জামান এবং আইনজীবী আমন ঝাঁ। কমিশনের তরফে চাওয়া একাধিক নথি ও তথ্য জমা দেওয়া হয়েছে বলেই দাবি শিবিরের।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রতের দাবি, কমিশনের যাবতীয় প্রশ্নের উত্তর তাঁরা দিয়েছেন এবং প্রতীক (TMC symbol) পাওয়ার বিষয়ে তাঁরা যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। এরপরই সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) আক্রমণ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ‘না খাতা না বহি, জো ডক্টর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কহে ওহি সহি’, এই পদ্ধতি আর চলবে না। তাঁর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস কোনও একজনের সিদ্ধান্তে চলবে না, কোনও পরিবারের দলও নয়। দলটি তৃণমূল স্তরের কর্মীদের।
আর এখানেই তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক প্রশ্ন। তাহলে তৃণমূলের প্রতীকের (TMC symbol) আসল অধিকারী কে?তাৎপর্যপূর্ণভাবে, ঋতব্রত যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বিরুদ্ধে এতটা চড়া সুরে আক্রমণ শানাচ্ছেন, তখন তাঁর পাশেই দেখা যায় মমতার পুরনো অনুগামী হিসেবে পরিচিত চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অরূপ রায় এবং আখরুজ্জামানকে। ফলে প্রতীক-যুদ্ধের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়েও শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
এখন নজর নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকে। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। তার আগেই প্রতীক-সংক্রান্ত জটিলতার নিষ্পত্তি চাইছে দুই শিবিরই।
তাহলে কি উপনির্বাচনের আগেই সামনে আসবে তৃণমূলের ‘আসল’ পরিচয়? কার হাতে থাকবে দলের প্রতীক? আর কমিশনের সিদ্ধান্তেই কি নির্ধারিত হবে তৃণমূলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক লড়াইয়ের দিশা? উত্তরের অপেক্ষায় এখন দুই শিবির এবং পশ্চিমবঙ্গ।


