27 C
Kolkata
Sunday, September 13, 2026
spot_img

মার্ক্স-লেনিনের বই থাকে, গীতা-বিবেকানন্দের নয়! গণেশপুজোর মঞ্চ থেকে কাদের নিশানা শুভেন্দুর?

Aaj India Desk, কলকাতা: ৩৪ বছরের বাম আমলে বাংলার সনাতন সংস্কৃতি ও পুজো-পার্বণকে পিছনে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল—এমনই অভিযোগ তুলে বামেদের বিরুদ্ধে সরব মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। কেষ্টপুরে গণেশপুজোর (Ganesh Puja) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গিয়ে অতীতের সেই সময়ের কথা তুলে ধরেন তিনি।

শুভেন্দুর দাবি, পুজোর সময় মণ্ডপের পাশে লাল শালু টাঙিয়ে বামেদের যে বইয়ের স্টল বসত, সেখানে কার্ল মার্ক্স ও লেনিনের মতো বিদেশি লেখকদের বই পাওয়া যেত। কিন্তু স্বামী বিবেকানন্দ, লোকানন্দজি কিংবা ভারত সেবাশ্রম সংঘের প্রণব প্রকাশনের বই খুঁজে পাওয়া যেত না। তাঁর কথায়, পশ্চিমবঙ্গ তৈরির ইতিহাস বা দ্বিজাতি তত্ত্বের মতো বিষয়ও সেই বইয়ের স্টলে খুঁজে পাওয়া যেত না।

রাজারহাট-গোপালপুরের বিধায়ক এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে প্রথা মেনে আরতি করে গণেশপুজোর উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমীর ব্রহ্মচারী, হিরন্ময়ানন্দ প্রভু এবং বিধায়ক তরুণজ্যোতি তেওয়ারী, পিযূষ কানোড়িয়া ও অরিজিৎ বক্সী।ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (PM Narendra Modi)‘মন কি বাত’-এর প্রসঙ্গও টানেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, রাজারহাট-গোপালপুরের পাশাপাশি গোটা বাংলার সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নতির কামনাতেই এই গণেশপুজোর আয়োজন।

১৯৪৭ সালের ২০ জুনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি এবং স্বামী প্রণবানন্দের আন্দোলনের ফলেই বাঙালি হিন্দুদের জন্য পশ্চিমবঙ্গ তৈরি হয়েছিল। এরপর ৩৪ বছরের কমিউনিস্ট শাসন এবং পরবর্তী ১৫ বছরের রাজনৈতিক পরিবর্তনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

শুভেন্দুর অভিযোগ, একটা সময় বাংলার মানুষকে পঞ্জিকা, শাস্ত্র, পুরোহিত এবং মন্ত্রোচ্চারণের মতো সনাতনী বিষয়গুলি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। এমনকি দুর্গাপুজো বা মহালয়ার মতো বিষয় নিয়েও নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হতো বলে দাবি করেন তিনি। আগের সরকারের আমলে মহরমের কারণ দেখিয়ে বিজয়া দশমীর দিন দুর্গাপ্রতিমা নিরঞ্জন বন্ধ রাখার চেষ্টা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

পিতৃপক্ষে পুজোর উদ্বোধনের বিষয়েও নিজের বক্তব্য জানান শুভেন্দু। তাঁর দাবি, অতীতে জেলে থাকা এক প্রাক্তন মন্ত্রীর সৌজন্যে পিতৃপক্ষেই পুজোর উদ্বোধন করা হতো, যা সনাতনী রীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাঁর বক্তব্য, এবার থেকে দেবীপক্ষ তথা মহালয়ার দিন থেকেই পুজোর উদ্বোধন হওয়া উচিত। পাশাপাশি মহাষ্টমীতে শুচি-পবিত্র হয়ে মায়ের অঞ্জলি দেওয়ার পুরনো ঐতিহ্যও ফিরিয়ে আনার বার্তা দেন তিনি।

ধর্ম, সংস্কার ও ঐতিহ্য যাতে কেউ বদলে দিতে না পারে, সেজন্য সকলকে একসঙ্গে থাকার আহ্বান জানান শুভেন্দু। একইসঙ্গে তিনি বলেন, হিন্দিভাষী, গুজরাটি, বাঙালি বা মাড়োয়ারি—পরিচয়ের ভেদাভেদ ভুলে দেশের স্বার্থে সবাইকে এক হতে হবে। অনুষ্ঠানে প্রশাসনের আধিকারিক, সংবাদমাধ্যমের কর্মী, মাতৃমণ্ডলী এবং যুবসমাজের অংশগ্রহণের কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। শেষে বিধায়ক তরুণজ্যোতি তেওয়ারীর এমএলএ ওয়েবসাইট এবং তাঁর জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনার প্রশংসা করে শুভেন্দু জানান, মানুষের জন্য দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে রাজ্য সরকার তাঁর পাশে থাকবে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন