Aaj India Desk, বীরভূম: কৌশিকী অমাবস্যার ভিড় ও ব্যস্ততা শেষ হতেই এবার নতুন কাজে হাত দিতে চলেছে তারাপীঠ মন্দির (Tarapith Temple) কর্তৃপক্ষ। শুরু হচ্ছে বহুদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা মন্দির সংস্কারের (Temple Renovation) কাজ। আর সেই কারণেই সাময়িকভাবে গর্ভগৃহ থেকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হবে মা তারার বিগ্রহকে। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার পর গর্ভগৃহ থেকে মা তারার বিগ্রহ নিয়ে যাওয়া হবে মন্দির চত্বরের মধ্যেই থাকা শিবমন্দিরে (Shiv Temple)। সংস্কারের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত, প্রায় এক মাস সেখানেই থাকবেন মা তারা।
তবে এতে ভক্তদের জন্য পুজো বা দর্শন বন্ধ হচ্ছে না। শিবমন্দির থেকেই নিয়ম মেনে মা তারার পুজো, আরতি ও ভোগ নিবেদন করা হবে। একই সঙ্গে সেখান থেকেই ভক্তদের দর্শনের ব্যবস্থাও থাকবে। মন্দির কমিটির সম্পাদক পুলক চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, কৌশিকী অমাবস্যার পর সংস্কারের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা আগে থেকেই করা ছিল। মন্দিরের শুধু ভিতরের অংশ নয়, বাইরের দিকেও প্রয়োজন অনুযায়ী মেরামতি ও সংস্কার করা হবে। পুরো কাজটি বিশেষজ্ঞ প্রযুক্তিবিদদের পরামর্শ এবং তাঁদের দেওয়া প্রযুক্তিগত নির্দেশ মেনেই করা হবে।
অমাবস্যার পর শনিবার ও রবিবার থাকায় তারাপীঠে সাধারণ দর্শনার্থীদের ভিড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই ভক্তদের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, সেই কথা মাথায় রেখেই ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে বিগ্রহ স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্দির কর্তৃপক্ষের আশা, এর ফলে অমাবস্যা উপলক্ষে আসা ভক্তদের দর্শনে বড় কোনও সমস্যা হবে না।
এবারের কৌশিকী অমাবস্যার তিথি শুরু হয়েছিল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ১১ মিনিটে। সেই পর্ব শেষ হতেই এবার শুরু হচ্ছে তারাপীঠ মন্দিরের সংস্কারের কাজ। তবে এই সংস্কারের লক্ষ্য শুধু মন্দিরকে নতুন করে সাজানো নয়, ভক্তরা যাতে আরও সহজে এবং পরিষ্কারভাবে মা তারাকে দেখতে পারেন, সেদিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মন্দির কমিটি জানিয়েছে, বর্তমানে নাটমন্দির থেকে মা তারাকে দেখতে গিয়ে অনেক ভক্তেরই অসুবিধা হয়। সেই সমস্যা দূর করতে মন্দিরের সামনের দরজার উচ্চতা প্রায় এক ফুট বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে নাটমন্দির থেকে দেবীর দর্শন আরও স্পষ্ট করার জন্য মা তারার মূল বেদিও প্রায় আট ইঞ্চি উঁচু করা হবে। অর্থাৎ, সংস্কারের পর মন্দিরের কাঠামোয় প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের পাশাপাশি ভক্তদের দর্শনের সুবিধাও অনেকটাই বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে। প্রায় এক মাস কাজ চললেও পুজো-আরতি বা ভোগ বন্ধ থাকবে না। শিবমন্দির থেকেই নিয়ম মেনে সবকিছু চলবে এবং সেখান থেকেই ভক্তরা মা তারার দর্শন করতে পারবেন।


