কলকাতা: ছাব্বিশের ভোটে রাজ্যের পালাবদল হতেই তৃণমূল নেতা-মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ বহিঃপ্রকাশের প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছিল “ডিম থেরাপি” (Egg Therapy)। প্রথম বড় বিতর্কের সূত্রপাত হয় কালীঘাট তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে। নিহত এক দলীয় কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার পথে তাঁর কনভয়ে ডিম ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। সেই ঘটনায় তাঁকে হেনস্তারও অভিযোগ ওঠে। অভিষেকের পোশাক ছিঁড়ে যায় এবং নিরাপত্তার স্বার্থে হেলমেট পরে ঘটনাস্থল ছাড়তে হয়েছিল তাঁকে।
এরপর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একই ধরনের ঘটনার অভিযোগ সামনে আসে। আদালতে পেশের সময় সব্যসাচী দত্তকে লক্ষ্য করেও ডিম ছোড়া (Egg Therapy) হয়। আবার কালীঘাটে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের ওপরও ডিম নিক্ষেপের অভিযোগ ওঠে। ধারাবাহিক এই ঘটনাগুলিকে কেন্দ্র করেই কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়।
বিরোধী নেতাদের লক্ষ্য করে একের পর এক ডিম ছোড়ার (Egg Therapy) ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট। এই ধরনের রাজনৈতিক হামলার পুনরাবৃত্তি রুখতে রাজ্য সরকারের কাছে বিস্তারিত তথ্য তলব করেছে আদালত। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে সব থানার জন্য নির্দিষ্ট গাইডলাইন তৈরির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে পুলিশকে।
মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী প্রশ্ন তোলেন, “সামাজিক সচেতনতা তৈরি করতে হবে। কী পদক্ষেপ নিয়েছেন? একজন-দু’জনকে গ্রেপ্তার করে কী হবে?” বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ও মন্তব্য করেন, “সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।”
বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থ সারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের উপর হামলা বা তাঁদের লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার (Egg Therapy) যত ঘটনা ঘটেছে, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য আদালতে জমা দিতে হবে। সেই সঙ্গে এই ধরনের ঘটনায় কতগুলি এফআইআর দায়ের হয়েছে এবং কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, তারও বিস্তারিত রিপোর্ট দিতে হবে রাজ্য সরকারকে।
আদালত কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রুখতে রাজ্যের সব থানার জন্য একটি অভিন্ন গাইডলাইন তৈরি করতে। সেই গাইডলাইন এবং ইতিমধ্যে গৃহীত পদক্ষেপের বিস্তারিত বিবরণ হলফনামা আকারে আদালতে জমা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে ২০ জুলাই। আদালতের এই নির্দেশের পর রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।


