নয়াদিল্লি: নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত এবার পৌঁছে গেল একেবারে নতুন পর্যায়ে! মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ‘জনতার ইমপিচমেন্ট’ (Mock Impeachment) বা প্রতীকী গণ-অভিশংসনের আয়োজন করল বিরোধী INDIA জোট। আর বিরোধীদের এই অভিনব কর্মসূচিকে ঘিরেই পালটা আক্রমণে নামল বিজেপি। রাহুল গান্ধীকে ‘নকল প্রধানমন্ত্রী’ বলে কটাক্ষ করে নতুন রাজনৈতিক তরজা উসকে দিলেন বিজেপির মুখপাত্র সম্বিত পাত্র।
শনিবার দিল্লিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনে এই প্রতীকী সংসদের (Mock Impeachment) আয়োজন করে INDIA জোট। প্রাক্তন লোকসভার স্পিকার মীরা কুমারের সভাপতিত্বে শুরু হয় কর্মসূচি। খাড়গে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ছ’টি অভিযোগ তুলে তাঁকে পদ থেকে সরানোর দাবি জানান। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR-এর নামে বিপুল সংখ্যক বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, প্রায় ১৩.২ কোটি ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনকে জবাবদিহি করতে হবে।
বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাহুল গান্ধীও জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। তাঁর বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের অভিযোগ তুলে শুধু পদ থেকে সরানো নয়, বিচারের দাবিও জানান তিনি। বিরোধীদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
তবে বিরোধীদের এই কর্মসূচিকে (Mock Impeachment) একেবারেই গুরুত্ব দিতে নারাজ বিজেপি। পালটা সাংবাদিক বৈঠক করে সম্বিত পাত্র বলেন, কংগ্রেসের এই নকল সংসদ আসলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে উপহাস করার সামিল। রাহুলকে নিশানা করে তাঁর কটাক্ষ, ‘ওঁর জ্বালানি শেষ হয়ে গিয়েছে। ওঁকে আজীবন নকল প্রধানমন্ত্রী করে রাখুন, আমাদের কোনও আপত্তি নেই।’
এখানেই থামেননি সম্বিত। তাঁর পালটা অভিযোগ, দেশের ইতিহাসে ভোট চুরির ঘটনা ঘটেছিল জওহরলাল নেহরুর সময়েও। পাশাপাশি SIR প্রক্রিয়ার পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি।
উল্লেখ্য, রবিবার অর্থাৎ ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে ভোট চুরির অভিযোগে বড়সড় প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে INDIA জোট। একদিকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের নজিরবিহীন প্রতিবাদ, অন্যদিকে বিজেপির পালটা রাজনৈতিক আক্রমণ, সব মিলিয়ে ভোটার তালিকা বিতর্ক এখন জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। প্রশ্ন একটাই, ভোটের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে এবার কোন পক্ষের যুক্তি শেষ পর্যন্ত মানুষের বিশ্বাস অর্জন করবে?


