30 C
Kolkata
Saturday, October 31, 2026
spot_img

রান্নার তেলে গিজগিজ করছে আরশোলা! কী বিষ খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ! হতবাক খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকরা

হুগলি: পরিবারের সুস্থতার কথা ভেবেই বাজার থেকে সরষের তেল কেনেন সাধারণ মানুষ। কিন্তু সেই তেল কতটা নিরাপদ (Food Safety)? রান্নার তেল তৈরির জায়গার ভিতরের ছবি সামনে আসতেই উঠছে সেই প্রশ্ন। কালো, চিটচিটে জ্যারিকেনে ভরা খোলা সরষের তেল, আর তেলের টিনে মরা আরশোলার স্তূপ! হুগলির দেবানন্দপুরের একটি তেলকলে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকদের অভিযান ঘিরে ছড়াল তীব্র চাঞ্চল্য।

প্রতিদিন যে তেল দিয়ে বাড়ির শিশু থেকে প্রবীণ, সকলের জন্য খাবার তৈরি হচ্ছে, সেই তেলের উৎস কতটা পরিচ্ছন্ন (Food Safety)? হুগলির দেবানন্দপুরের একটি তেলকলের ছবি সামনে আসতেই সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হয়েছে এমনই একাধিক প্রশ্ন।

শনিবার আচমকাই ওই তেলকলে হানা দেন খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা। ভিতরে ঢুকতেই তাঁদের নজরে আসে কালো, চিটচিটে জ্যারিকেনে রাখা সরষের তেল। সেই তেলই খুচরো বাজারে বিক্রি করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। খোলা তেল বিক্রির পদ্ধতি নিয়েও আপত্তি জানান আধিকারিকরা। তাঁদের বক্তব্য, খাদ্য সুরক্ষার নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।

তবে তেলকলের ভিতরে গিয়ে যা দেখা গেল, তা আরও উদ্বেগজনক। তেলের টিনে মরা আরশোলার উপস্থিতি দেখে কার্যত হতবাক হয়ে যান আধিকারিকরা। এক-দু’টি নয়, টিনের ভিতরে একাধিক মরা আরশোলা দেখতে পাওয়া যায়। খাবার তৈরির সঙ্গে যুক্ত একটি জায়গায় এমন অপরিচ্ছন্নতার ছবি দেখে স্বাভাবিকভাবেই উঠছে স্বাস্থ্যবিধি (Food Safety) নিয়ে প্রশ্ন।

যদিও তেলকল কর্তৃপক্ষের দাবি, যে টিনে আরশোলা পাওয়া গিয়েছে, সেটি তেলের টিন নয়, গুড় রাখার টিন। সেটি ফেলে দেওয়ার জন্য রাখা হয়েছিল। অন্যদিকে, ট্রেড লাইসেন্স থাকলেও খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের ফুড লাইসেন্স দেখাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। তাঁদের দাবি, খোলা তেল বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে তাঁরা অবগত ছিলেন না। এরপরই তেলকল কর্তৃপক্ষকে ১৫ দিনের মধ্যে ফুড সেফটি লাইসেন্স তৈরি করার নোটিস দেয় খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর (Food Safety)।

শুধু হুগলিই নয়, শনিবার সকালে কলকাতার শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরেও অভিযান চালান খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা। আচমকাই হানা দেওয়া হয় ভাইরাল পরোটা বিক্রেতা রাজুদার দোকানে। আধিকারিকদের দাবি, পরোটা বিক্রির জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছিল না তাঁর কাছে। যদিও রাজুদার বক্তব্য, তাঁর তৈরি তরকারি ফ্লোর টেস্টে উত্তীর্ণ হয়েছে। এদিন খাবারের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার জন্য পাঠান আধিকারিকরা। পাশাপাশি তাঁকে সার্জিক্যাল ক্যাপ পরার নির্দেশও দেওয়া হয়।

একদিকে হুগলির তেলকল, অন্যদিকে শিয়ালদহের জনপ্রিয় পরোটার দোকান, খাদ্য সুরক্ষা নিয়ে একই দিনে একাধিক জায়গায় অভিযান ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

প্রশ্ন একটাই, প্রতিদিন যে খাবারকে নিশ্চিন্তে পরিবারের পাতে তুলে দিচ্ছেন, তার নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে তো? কারণ খাবারের স্বাদ যতই ভালো হোক, তার চেয়েও জরুরি পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্যসুরক্ষা (Food Safety)। সাধারণ মানুষের পাতে নিরাপদ খাবার পৌঁছনোর দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ নেই কারও।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন