Aaj India Desk, কলকাতা: বহুজন NCPI নামে কি নতুন কোনও রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি হচ্ছে? নাকি এটি NCPI-রই একটি শাখা বা সামাজিক উদ্যোগ? কাকলি ঘোষ দস্তিদারের (Kakoli Ghosh Dastidar) ছেলে বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদারের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে এই প্রশ্নই এখন রাজনৈতিক মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে।
‘বহুজন NCPI’-তে যোগ দেওয়ার আহ্বান
সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া ওই পোস্টে দলিত, মুসলিম, জনজাতি, উপজাতি এবং ওবিসি সম্প্রদায়ের মানুষকে ‘বহুজন NCPI’-তে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। যোগাযোগের জন্য একটি ফোন নম্বরও দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক পদে দলিত, অতি অনগ্রসর শ্রেণি, মহাদলিত, মতুয়া ও নমঃশূদ্র সম্প্রদায়ের জন্য ২৫ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার কথা পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০ সাংসদের NCPI ঘিরে আগেই জল্পনা
চলতি বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর রাজ্য রাজনীতিতে একাধিক পরিবর্তন দেখা যায়। তৃণমূলের লোকসভা সাংসদদের একাংশ দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে পৃথক শিবির তৈরি করেন। পরে ওই ২০ জন সাংসদ NCPI-তে যোগ দেন। তবে সংসদে এখনও তাঁদের নামের পাশে তৃণমূল কংগ্রেসের পরিচয়ই রয়েছে এবং NCPI-ও সেখানে স্বীকৃতি পায়নি।
এই পরিস্থিতিতে ‘বহুজন NCPI’ নাম সামনে আসায় প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি নতুন রাজনৈতিক মঞ্চ তৈরি হচ্ছে? নাকি NCPI-র মধ্যেই কোনও নতুন সাংগঠনিক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে?
আলাদা দল নয়, ব্যাখ্যা কাকলি-পুত্রের
যদিও বিষয়টি নিয়ে বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদারের বক্তব্য, ‘বহুজন NCPI’ কোনও পৃথক দল নয়। এটি মূল দলের একটি উইং, শাখা কিংবা ট্রাস্ট হিসেবে কাজ করবে। পিছিয়ে থাকা আদিবাসী, মুসলিম, তফসিলি উপজাতি ও দলিত সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য বিভিন্ন সামাজিক কাজ করাই হবে এর উদ্দেশ্য। কম্পিউটার দেওয়ার মতো উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কাজও করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
কী বললেন কাকলি?
পোস্টটি নিয়ে কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানান, তাঁদের সোশ্যাল মিডিয়া সেল থেকেই এটি প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ২০ জন সাংসদ আগের অধিবেশনেও একসঙ্গে কাজ করেছেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন। ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া বা NCPI-র লক্ষ্য সকলকে সঙ্গে নিয়ে এগোনো। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণি, দলিত, মহিলা এবং আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষের উন্নয়নে।
ফলে ‘বহুজন NCPI’ শেষ পর্যন্ত সামাজিক উদ্যোগ হিসেবেই থাকে, নাকি ভবিষ্যতে এর আলাদা রাজনৈতিক পরিচয় তৈরি হয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


