Aaj India Desk, দক্ষিণ ২৪ পরগনা : নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজ্যে আবারও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কোথাও বদলি, কোথাও অভিযোগ, এই টানাপোড়েনের মাঝেই রাজনৈতিক মহলে বাড়ছে জল্পনা। এই আবহেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুর থানার (Narendrapur Police station) ওসি বদলকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে।
হঠাৎ ওসি পরিবর্তনে নির্বাচন কমিশনে চিঠি
সম্প্রতি নরেন্দ্রপুর থানার (Narendrapur Police station) প্রাক্তন ওসি সুরিন্দর সিংহকে সরিয়ে প্রসেনজিৎ বিষ্ণুকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এরপরেই বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে শাসকদল। তৃণমূলের অভিযোগ, হঠাৎ করেই নরেন্দ্রপুর থানার ওসি বদল করা হয়েছে, যার স্পষ্ট কারণ প্রশাসনের তরফে জানানো হয়নি। এই সিদ্ধান্তে নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বলে দাবি শাসকদলের।
তৃণমূলের জাতীয় মুখপাত্র ও সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন নির্বাচন কমিশনকে লেখা চিঠিতে দাবি করেছেন, নতুন ওসি প্রসেনজিৎ বিষ্ণুর সঙ্গে সোনারপুর উত্তর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী দেবাশীষ ধরের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দু’জন একই স্কুলে পড়াশোনা করেছেন এবং একাধিক সামাজিক অনুষ্ঠানে একসঙ্গে দেখা গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রসেনজিৎ বিষ্ণুকে সরানোর দাবি জানানো হয়েছে।
সোনারপুর উত্তর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী ফিরদৌসি বেগমও এই ইস্যুতে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর কথায়,“হঠাৎ করে আগের ওসিকে কেন সরানো হল, তার কোনও পরিষ্কার ব্যাখ্যা নেই। নিজেদের পছন্দের অফিসার বসানো হচ্ছে, এতে নিরপেক্ষ নির্বাচন কতটা সম্ভব তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছে।”
অভিযোগ উড়িয়ে পাল্টা জবাব বিজেপির
তবে এই সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী দেবাশীষ ধর। তিনি জানান, তিনি নিজে প্রাক্তন পুলিশকর্মী হওয়ায় অনেকের সঙ্গেই পরিচিতি থাকা স্বাভাবিক। তাঁর দাবি, নরেন্দ্রপুর থানার (Narendrapur Police station) আগের ওসির বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ জমা পড়েছিল, সেই কারণেই নির্বাচন কমিশন বদলির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় বিজেপির কোনও ভূমিকা নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেন। ডেরেক ও’ব্রায়েনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, “এই তথ্য কোথা থেকে আনা হয়েছে জানি না। প্রমাণ দিতে হবে, না হলে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।”
পাশাপাশি এই বিতর্কে কটাক্ষ করেছেন বাম প্রার্থী মোনালিসা সিনহা। তাঁর মন্তব্য, “প্রশাসন এখন দলদাসে পরিণত হয়েছে।” একইসঙ্গে তৃণমূল ও বিজেপির সংঘাতকে তিনি “মেক-বিলিভ” বলেও অভিহিত করেছেন।
নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক পদে বদল নিয়ে এই টানাপোড়েন রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করছে। নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এখন নজর রয়েছে সব মহলের।


