Aaj lndia Desk,নদিয়া : নবদ্বীপে রহস্যময় পরিস্থিতিতে এক মহিলার দেহ উদ্ধারকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। শনিবার সকালে পূর্ব রেলের ব্যান্ডেল – কাটোয়া শাখার বিষ্ণুপ্রিয়া হল্ট স্টেশনের আপ প্ল্যাটফর্ম সংলগ্ন এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথম দেহটি দেখতে পান। অভিযোগ, দেহটি ছিল বিবস্ত্র অবস্থায়, যা ঘিরে আতঙ্ক আরও বাড়ে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় নবদ্বীপ থানার পুলিশ এবং রেল পুলিশ। তারা দেহটি উদ্ধার করে নবদ্বীপ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা ওই মহিলাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তবে এখনও পর্যন্ত মৃতার পরিচয় জানা যায়নি।ঘটনার কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। এটি দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা না কি অন্য কোনও অপরাধমূলক ঘটনা সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পুরো বিষয়টি ঘিরে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও উদ্বেগ ছড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, যে জায়গা থেকে মহিলার দেহ উদ্ধার হয়েছে, তার কাছেই একটি মদের দোকান রয়েছে। শনিবার ভোরে স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথম দেহটি দেখতে পান এবং সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, মৃত মহিলার বয়স আনুমানিক ৪০ থেকে ৪২ বছরের মধ্যে। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁর পরিচয় জানা যায়নি। সেই কারণে মৃতার ছবি নদিয়া, বর্ধমান সহ পার্শ্ববর্তী জেলার বিভিন্ন থানার কন্ট্রোল রুমে পাঠানো হয়েছে, যাতে দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
এদিকে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ। রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর রহস্য অনেকটাই পরিষ্কার হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ঘটনার খবর পেয়ে এ দিন ঘটনাস্থলে পৌঁছন নবদ্বীপ বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী শ্রুতি শেখর গোস্বামী (Shruti Sekhar Goswami)। সেখানে দাঁড়িয়ে তিনি রাজ্যের শাসক দলকে কটাক্ষ করেন, যদিও কারও নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি।
তিনি বলেন, “এটাই নবদ্বীপের তথাকথিত শান্তির ছবি। এর আগেও এখানে এমন একাধিক ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু তবুও কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।” একই সঙ্গে বিজেপি প্রার্থীর দাবি, ঘটনাটি অত্যন্ত সন্দেহজনক। তাঁর অনুমান, ওই মহিলাকে অন্য কোথাও খুন করে দেহটি এনে বিষ্ণুপ্রিয়া হল্ট স্টেশনের কাছে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা দেবাশিষ ঘোষ জানান, সকালে চা খেতে এসে তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে পারেন। তাঁর কথায়, ওই মহিলাকে আগে কখনও এলাকায় দেখা যায়নি, অর্থাৎ তিনি স্থানীয় নন বলেই মনে হচ্ছে। পরে পুলিশ এসে দেহটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়।


