মুর্শিদাবাদ: ২০২৩ উপনির্বাচনের পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছিলেন সাগরদিঘির বাইরন বিশ্বাস (Byron Biswas)। বাম-কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে তৃণমূলকে পরাজিত করেন তিনি। কিন্তু ফল ঘোষণার তিন মাসের মধ্যে খেলা ঘুরিয়ে ঘাসফুল শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে সাগরদিঘি কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটেই লড়ছেন। তবে ভোটের ঠিক চারদিন আগে তাঁর গলায় অন্য সুর। নিজেকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে স্বীকার করলেন বাইরন বিশ্বাস (Byron Biswas)!
ভোটের আগ মুহূর্তে বাড়ালেন জল্পনা
আগামী ২৩ এপ্রিল সাগরদিঘিতে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। তার ঠিক আগে অধীর চৌধুরীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন বাইরন বিশ্বাস। তিনি বলেন, “অধীর চৌধুরীর হাত ধরেই রাজনীতিতে এসেছিলাম। সেলিম সাহেবের হাত ধরে প্রার্থী হয়েছিলাম। সেই কথা সারা দেশ জানে।” তিনি (Byron Biswas) আরও বলেন, “আমি স্বার্থপর, বিশ্বাসঘাতকতা করেছি। অধীর চৌধুরীকে আমি মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত স্মরণ করব। উনি আমার গুরুদেব”। উল্লেখ্য, এবার বিধানসভা ভোটে বহরমপুর কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী হয়েছেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী।
“যাকে খুশি ভোট দিন”
ভোটের আগে এই বাইরনের (Byron Biswas) বোমা বিস্ফোরণ এখানেই থামেনি। নিজে তৃণমূল প্রার্থী হয়ে ভোটে লড়লেও ভিন্নধর্মী প্রচার সারলেন তিনি। “যদি আপনাদের মনে হয় বিজেপি বা অন্য কোনও প্রার্থী আমার থেকে বেশি যোগ্য, তাহলে তাঁকেই জিতিয়ে দিন, তাঁর কাছ থেকেই পরিষেবা নিন। আর যদি মনে করেন অন্য কেউ সবসময় আপনাদের পাশে থাকবে, তবে বাইরন বিশ্বাসকে জেতানোর কোনও প্রয়োজন নেই”, বলেন বাইরন।
পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে?
ভোটের পর কি দলবদলের ইঙ্গিত দিচ্ছেন তৃণমূল প্রার্থী বাইরন বিশ্বাস (Byron Biswas)? একদিকে অধীর চৌধুরীর প্রশংসা, অন্যদিকে, বিজেপি বা যাকে খুশি তাঁকে ভোট দিতে বলে, ঠিক কি বোঝাতে চাইছেন বাইরন বিশ্বাস? এখন প্রশ্ন উঠছে, ২০২৩-এর উপনির্বাচনের কি পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে? শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।


