Aaj India Desk, কলকাতা: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের তরুণী চিকিৎসক তিলোত্তমার খুন ও ধর্ষণ মামলার তদন্তে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল সিবিআই। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টে মামলার অগ্রগতি রিপোর্ট পেশ করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা জানায়, ঘটনার দিন রাতে তিলোত্তমার সঙ্গে ডিনারে উপস্থিত থাকা চার জনের বয়ান রেকর্ড করার কাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই কয়েক জনের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে, বাকিদেরও খুব শীঘ্রই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
হাইকোর্টে কী জানাল সিবিআই?
বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চে সিবিআই জানায়, আদালতের নির্দেশ মেনেই তদন্তের বিভিন্ন দিক নতুন করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার দিন থেকে শ্মশানঘাট পর্যন্ত গোটা ঘটনাপ্রবাহ পুনরায় যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তের বর্তমান অগ্রগতির রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশে আগামী ২৮ অগাস্ট দুপুর ২টোর মধ্যে ফের তদন্তের অগ্রগতি রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
তদন্তের গতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ আদালতের
শুনানির সময় ডিভিশন বেঞ্চ তদন্তের ধীর গতির প্রসঙ্গ তুলে অসন্তোষ প্রকাশ করে। বিচারপতি শম্পা সরকার বলেন, “আমরা আগেই বলেছিলাম, ঘটনার দিন থেকে শ্মশানঘাট পর্যন্ত পুরো বিষয়টি নতুন করে তদন্ত করতে। আর কতদিন সময় লাগবে? আর কতদিন বিচারের জন্য অপেক্ষা করতে হবে? প্রত্যেকেই বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন।”
পরিবারের আইনজীবীর কী অভিযোগ?
তিলোত্তমার পরিবারের আইনজীবী জয়ন্তনারায়ণ চট্টোপাধ্যায় আদালতে দাবি করেন, পরিবারের পক্ষ থেকে জমা দেওয়া তিনটি অতিরিক্ত হলফনামা তদন্তে যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয়নি। তাঁর অভিযোগ, রাত ১১টা ১৫ মিনিটের পরের সময়টিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, অথচ সেই সময় তিলোত্তমার সঙ্গে ডিনারে থাকা চার চিকিৎসকের সঙ্গে প্রথমদিকে তদন্তকারীরা কথা বলেননি। তিনি আরও জানান, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সিবিআই কথা বলেছে এবং এমন এক প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্যও সামনে এসেছে, যিনি মৃতদেহ নামানোর ঘটনা দেখেছেন বলে দাবি করেছেন।
আদালতে কী প্রশ্ন তুললেন বিচারপতিরা?
বিচারপতি শম্পা সরকার জানতে চান, চার জনের বয়ান কি হাইকোর্টের নির্দেশের পর নেওয়া হয়েছে? উত্তরে সিবিআইয়ের আইনজীবী অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ধীরাজ ত্রিবেদী জানান, হ্যাঁ, আদালতের নির্দেশের পর ৮ জুলাই থেকে বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে।
অন্যদিকে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ জানতে চান, ডা. সৌমিত্র রায়ের আগের ও বর্তমান বয়ানের মধ্যে কী পার্থক্য রয়েছে। তিনি সেই দুটি বয়ান আদালতে পেশ করার নির্দেশ দেন। এছাড়াও মৃতার মাকে কখন প্রথম খবর দেওয়া হয়েছিল, সেই প্রশ্নের উত্তরে সিবিআই জানায়, ঘটনার দিন সকাল প্রায় ৯টা ৩০ মিনিটে আরজি কর হাসপাতাল থেকে ফোন করা হয়েছিল।
সিবিআইয়ের দাবি কী?
সিবিআইয়ের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ধীরাজ ত্রিবেদী আদালতকে জানান, হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে তদন্তের প্রতিটি দিক নতুন করে খতিয়ে দেখা হয়েছে। মামলায় ওঠা প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং তদন্ত এখনও চলমান।
পরবর্তী শুনানি কবে?
সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, তদন্তে কাকে সাক্ষী বা কাকে অভিযুক্ত করা হবে, তা সম্পূর্ণ তদন্তকারী সংস্থার সিদ্ধান্ত। আদালত সেই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না। তবে তদন্ত দ্রুত শেষ করে সত্য সামনে আনার ওপর জোর দিয়ে আগামী ২৮ অগাস্ট মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে কলকাতা হাইকোর্ট।


