Aaj India Desk, কলকাতা : বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রকাশ্য সতর্কবার্তার পর এবার নবান্নে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন নওদার আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। বুধবার সন্ধ্যায় হওয়া এই বৈঠকে মূলত মুর্শিদাবাদ জেলার উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের পরিকাঠামোগত দাবিগুলি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হুমায়ুন। বৈঠকের বিষয়টি তিনি নিজেই সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেন।
সৌজন্য সাক্ষাৎ বলে দাবি বিধায়কের
সামাজিক মাধ্যমে হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) জানান, এটি একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। তাঁর দাবি, অনেক আগে থেকেই তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সাক্ষাতের সময় চেয়েছিলেন। সেই অনুযায়ী নবান্নে বুধবার সন্ধ্যা প্রায় ৬টা নাগাদ তাঁদের বৈঠক হয়। বৈঠকে মুর্শিদাবাদ জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক বিষয় নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি
হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir) দাবি, বৈঠকে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের প্রস্তাব রাখেন।
প্রথমত, নওদা বিধানসভা এলাকার কৃষকদের সুবিধার জন্য একটি আধুনিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের আবেদন জানান তিনি।
দ্বিতীয়ত, রেজিনগর বিধানসভা এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত সমস্যার সমাধানে ভাগীরথী নদীর উপর একটি নতুন সেতু নির্মাণের দাবি তোলেন।
‘ইতিবাচক আলোচনা’, দাবি হুমায়ুনের
বিধায়কের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী মুর্শিদাবাদের মানুষের দাবিগুলি গুরুত্ব সহকারে শুনেছেন এবং সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে হুমায়ুন লেখেন, “মুর্শিদাবাদের প্রতিটি মানুষের অধিকার, অগ্রগতি ও উন্নয়নের জন্য আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।” পাশাপাশি তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদও জানান।
বিতর্কের পর বদলাল রাজনৈতিক বার্তা
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর রেজিনগরের একটি জনসভায় বিজেপিকে আক্রমণ করে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন হুমায়ুন কবীর। সেই মন্তব্যকে ঘিরে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁকে প্রকাশ্যে সতর্ক করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, “যথেষ্ট হয়েছে। আগে যারা আপনাকে ওই সভায় ডেকেছিল, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। তারপর আপনার কাছে আসব। এটাই আপনার শেষ বক্তব্য। আর বেপরোয়া মন্তব্য করতে দেব না।” এরপর থেকেই হুমায়ুন কবীরের রাজনৈতিক অবস্থান ও বক্তব্যে তুলনামূলক সংযম দেখা যায় বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের পর্যবেক্ষণ।
বিতর্কিত মন্তব্যের পর মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এই সাক্ষাৎ রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে বৈঠককে হুমায়ুন কবীর উন্নয়নমূলক আলোচনার অংশ বলেই ব্যাখ্যা করেছেন। এখন বৈঠকে উত্থাপিত প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন নিয়ে কী পদক্ষেপ হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।


