Aaj India Desk, কলকাতা : NRS হাসপাতালে কর্তব্যরত নার্স রূপালি বর্মনের রহস্যমৃত্যু ঘিরে তদন্তে উঠে আসছে একের পর এক প্রশ্ন। বুধবার রাতে গাইনি ও অবস্টেট্রিক্স বিভাগের অ্যান্টেনেটাল ওয়ার্ডের পাশে একটি শৌচাগার থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক ময়নাতদন্তে তাঁর শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতির লক্ষণ পাওয়া যায়। পাশাপাশি, অতিরিক্ত ওষুধের প্রভাবেও মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে এখনও মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত নয়। (NRS Nurse Death)
প্রাথমিক ময়নাতদন্তে কী জানা গেল?
প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বলা হয়েছে, রূপালির শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতির লক্ষণ ছিল। চোখের সাদা অংশ, নখ এবং জিভের কিছু অংশ নীল হয়ে গিয়েছিল। শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণেই মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। তবে চিকিৎসকেরা ওষুধের অতিরিক্ত মাত্রার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না। কিন্তু সেটিকে মৃত্যুর চূড়ান্ত কারণ বলে মনে করছেন না চিকিৎসকরা। ফরেন্সিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরই বিষয়টি পরিষ্কার হবে। (NRS Nurse Death)
দুই কনুইয়ে সুচের দাগ কেন?
তদন্তে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে রূপালির দুই কনুইয়ে থাকা সুচের দাগ। যদি অতিরিক্ত ওষুধের কারণেই মৃত্যু হয়ে থাকে, তাহলে সেই ওষুধ কীভাবে তাঁর শরীরে ঢুকল, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। ঘটনাস্থল থেকে ফেন্টানিল এবং মিডাজোলামের ভায়ালও পাওয়া গিয়েছে। এই ওষুধগুলি হাসপাতাল থেকে কীভাবে নেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী ওষুধ নেওয়ার সময় রেজিস্টারে তার কোনও নথি হয়েছিল কি না, সেটিও দেখা হচ্ছে। (NRS Nurse Death)
ভায়ালগুলি এল কোথা থেকে?
তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, ওই ওষুধের ভায়ালগুলি কোথা থেকে এল। রূপালি নিজে সেগুলি নিয়েছিলেন, নাকি অন্য কেউ তাঁকে দিয়েছিল তা জানার চেষ্টা চলছে। হাসপাতালের ওষুধ রাখার জায়গা থেকে ওই ভায়ালগুলি নেওয়া হয়েছিল কি না, সেখানেও কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওষুধের উৎস সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেলে পুরো ঘটনার অনেকটাই পরিষ্কার হতে পারে।
৮ সদস্যের তদন্ত কমিটি
রূপালির মৃত্যুর কারণ খুঁজতে স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশে ৮ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি তৈরি করা হয়েছে। কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন ফরেন্সিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান। সাত দিনের মধ্যে রাজ্যের স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিকর্তার কাছে রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা। ঘটনার সময় কী হয়েছিল, তা জানতে CCTV ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রূপালির মৃত্যু আত্মহত্যা, দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনও কারণে হয়েছে তা নিয়েই এখন চলছে জল্পনা। প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত ওষুধের সম্ভাবনার কথা উঠে এলেও দুই কনুইয়ের সুচের দাগ এবং ফেন্টানিল-মিডাজোলামের ভায়াল নিয়ে এখনও বেশ কিছু প্রশ্ন রয়েছে। এখন তদন্তকারীদের নজর ফরেন্সিক-প্যাথলজি রিপোর্ট, CCTV ফুটেজ এবং হাসপাতালের ওষুধের নথির দিকে। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট সামনে এলে রূপালির মৃত্যুর আসল পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে দাবি প্রশাসনের।


