Aaj India Desk, কলকাতা : কমিশনের (ECI) ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বাংলা জুড়ে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ও বিতর্ক হয়েছে। SIR কে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করার প্রক্রিয়া বলে দাবি করা হলেও সাধারণ মানুষদের চরম দুর্ভোগের সম্মুখীন হতে হয়। একাধিকবার নথি পরিবর্তন, যাচাইয়ের পরেও বৈধ ভোটারদের নাম বাদ যাওয়া, অকারণ হয়রানি সহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে কমিশনের বিরুদ্ধে। ৬০ লক্ষ নাম বাদ যাওয়ার পর শেষ পর্যন্ত ট্রাইব্যুনাল গঠনেরও ব্যবস্থা করা হয়। এত ঘটনার পরেও সংশোধিত তালিকায় গলদ রয়েই গেছে, যা নিয়ে উত্তাল সমাজমাধ্যম।
কী গলদ ধরা পড়ল ?
ECI-এর অনলাইন ভোটার সার্চ পোর্টাল voters.eci.gov.in এ একই এপিক নম্বর দিয়ে অনুসন্ধান করলে দেখা যায়, ওই ব্যক্তির নাম, বয়স, বাবা/স্বামীর নামসহ সব ব্যক্তিগত ও জনসংখ্যাগত তথ্য দুটি ভিন্ন স্থানে রয়েছে :
- ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বুথ ১২৯ (কলকাতা দক্ষিণ জেলা)
- কসবা বিধানসভা কেন্দ্রের বুথ ২৪৬ (দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা)
দুটি এন্ট্রিতেই ব্যক্তিগত তথ্য অভিন্ন, কিন্তু জেলা, বিধানসভা কেন্দ্র ও বুথ নম্বর সম্পূর্ণ আলাদা।
কেনো এই গলদ ?
সাধারণত কোনো ভোটার যখন ফর্ম-৮ দিয়ে নতুন কেন্দ্রে স্থানান্তরের আবেদন করেন এবং পুরনো কেন্দ্র থেকে মুছে ফেলার (ফর্ম-৭) প্রক্রিয়া এখনও চলতে থাকে, তখন এমন অস্থায়ী ওভারল্যাপ তৈরি হতে পারে। তবে চূড়ান্ত বা সম্পূরক তালিকায় এমন দ্বৈত এন্ট্রি থাকায় তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
নির্বাচনের আগে ECI ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) করে পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রায় ৯০ লক্ষেরও বেশি নাম মুছে ফেলেছে। এতে দ্বৈত নাম, মৃত ব্যক্তি, স্থানান্তরিত ও অযোগ্য এন্ট্রি বাদ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়। প্রক্রিয়ায় বাদ গিয়েছে অনেক বৈধ ভোটারদের নামও। কমিশনের এত নজরদারি সত্ত্বেও সেই সংশোধিত তালিকায় এই গলদ কমিশনের নিরপেক্ষতা ও প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করেছে। তবে নির্বাচন কমিশনের তরফে এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।


