Aaj India Desk, মালদহ: অন্নপূর্ণা যোজনার (Aanapurna Yojona) ৩ হাজার টাকা পেয়ে অনেক মহিলার মুখে হাসি ফুটলেও, একই প্রকল্পের টাকা না পাওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে বহু আবেদনকারীর (Applicant) মধ্যে। এবার মালদহ থেকে উঠল আরও গুরুতর অভিযোগ। যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও পরিকল্পনা করে কিছু মহিলার নাম অন্নপূর্ণা যোজনার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি বিজেপির (BJP)।
এই অভিযোগে প্রশাসনের কয়েকজন আধিকারিক, পুরসভার কর্মী এবং কয়েকজন তৃণমূল কাউন্সিলরের (TMC Councillors) বিরুদ্ধে এফআইআর করার দাবি তুলেছে মালদহ জেলা বিজেপি। বিষয়টি নিয়ে দলের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে রিপোর্ট পাঠানোরও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পাওয়ায় রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ইতিমধ্যেই মহিলাদের বিক্ষোভ হয়েছে। মালদহেও একই ছবি দেখা যাচ্ছে। বিজেপির অভিযোগ, বঞ্চিতদের অনেকেই তাদের দলের কর্মী-সমর্থক বা ভোটার। তাঁদের দাবি, আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পেলেও অন্নপূর্ণা যোজনায় তাঁদের নাম রাখা হয়নি।
আবেদনকারীদের একাংশের অভিযোগ, প্রথমে তাঁদের আবেদন ‘আন্ডার প্রসেস’ দেখাচ্ছিল। পরে সেটাই ‘আন্ডার এনকোয়ারি’ হয়ে যায়। কিন্তু সেই তদন্তও ঠিকভাবে করা হচ্ছে না বলে তাঁদের অভিযোগ। এমনকী, কয়েকজন মহিলার দাবি, বাড়িতে এসে তদন্ত করার পর ভুল তথ্য দিয়ে রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। যাঁদের বাস্তবে কোনও বাড়ি নেই, তাঁদের নামের সঙ্গে তিন-চারটি বাড়ি রয়েছে বলে রিপোর্টে দেখানো হয়েছে। এর ফলেই তাঁরা প্রকল্পের সুবিধা থেকে বাদ পড়েছেন বলে অভিযোগ।
যদিও এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইংরেজবাজার পুরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী আনোয়ার সামিম। পুরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীর বক্তব্য, সরকারি নিয়ম মেনেই যাচাইয়ের কাজ চলছে। ফর্ম পূরণের সময় কোনও ভুল হয়ে থাকলে তার দায় আবেদনকারীদেরও হতে পারে। কর্মীরা এলাকায় গিয়ে সরেজমিনে তদন্ত করছেন বলেও তিনি।
অন্যদিকে, মালদহ জেলা বিজেপি সভাপতি অজয় গাঙ্গুলির অভিযোগ, বিষয়টি নিছক ভুল নয়, এর পিছনে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র রয়েছে। তাঁর দাবি, বিজেপি কর্মী-সমর্থক এবং ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করতেই ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, গতকাল বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছিলেন অর্জুন সিংও। তাঁর অভিযোগ, নিচুতলার কিছু আধিকারিক ও বিডিও স্তরে যোগ্য মহিলাদেরও অযথা হয়রানি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “নিচুতলার যাঁরা অফিসার রয়েছেন বিডিও এরা জেনে-শুনে বদমাসি করছি। যাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনা পাওয়ার যোগ্য, তাঁদেরও হেনস্থা করছে। আমরা এই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপকভাবে নজরদারি করছি। বারেবারে বলেছি এই ধরনের অন্যায় করা যাবে না। মুখ্যমন্ত্রী যে কাজ করতে বলছেন সেইটাই করতে হবে।”


