Aaj India Desk, কলকাতা : মাত্র কয়েক মাস আগে তৃনমূল থেকে নওশাদ সিদ্দিকির নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টে (ISF) যুক্ত হয়েছিলেন ভাঙড়ের প্রাক্তন তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলাম (Arabul Islam)। বছর না ঘুরতেই এবার সেই দলও ছাড়ার কথা জানালেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো রাখ ঢাক না করে স্পষ্ট নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ভাঙড়ে দলের সঙ্গে যুক্ত ‘লুম্পেনবাহিনী’ সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার করছে। সেই প্রতিবাদেই দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন আরাবুল।
কয়েক মাসেই উল্টো সুর
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে ISF-এ যোগ দিয়েছিলেন আরাবুল ইসলাম (Arabul Islam)। সেই সময় তাঁর অভিযোগ ছিল, তৃণমূলের জন্য দীর্ঘদিন কাজ করলেও দল তাঁকে বারবার অপমান করেছে। সেই ক্ষোভ থেকেই তৃণমূল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি।।কিন্তু ভোটের ফল প্রকাশের কয়েক মাসের মধ্যেই তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানে ফের বদল। যে ধরনের অভিযোগ তুলে তৃণমূল ছেড়েছিলেন, এবার প্রায় একই সুরে ISF-এর বিরুদ্ধেও প্রশ্ন তুললেন ভাঙড়ের এই নেতা।
‘একনায়কতন্ত্র চলছে’, অভিযোগ আরাবুলের
দল ছাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আরাবুলের (Arabul Islam) অভিযোগ, ISF-এ একনায়কতন্ত্র চলছে। ভাঙড়জুড়ে দলের সঙ্গে যুক্ত কিছু লোক সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার করছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদেই ISF থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আরাবুল। তাঁর বক্তব্য ঘিরে ভাঙড়ের রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
পরের গন্তব্য কোথায়?
আরাবুলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে। একসময় ভাঙড়ে তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে উঠে এসেছিলেন তিনি। ২০০৬ সালে ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্র থেকে সিপিএম প্রার্থী মোশাররফ হোসেন লস্করকে হারিয়ে তৃণমূলের বিধায়ক হন আরাবুল। ২০১১ সালের নির্বাচনে সিপিএমের বাদল জমাদারের কাছে পরাজিত হন তিনি। এরপর ধীরে ধীরে তৃণমূলে তাঁর গুরুত্ব কমে এবং পরবর্তী সময়ে দল থেকে বহিষ্কৃত হন।
বর্তমানে রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়েও নানা আলোচনা চলছে। সেই পরিস্থিতিতে আরাবুল এবার কোন রাজনৈতিক শিবিরে যাবেন, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। তাঁর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তবে তিনি আদৌ সেই শিবিরে যাবেন কি না, অথবা তাঁকে সেখানে গ্রহণ করা হবে কি না দুই বিষয়ই এখনও অনিশ্চিত। আরাবুলের ISF ছাড়া এখন ভাঙড়ের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করে কি না, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


