Aaj lndia Desk, শিলিগুড়ি: বিধানসভা নির্বাচন ( Assembly Election ) শেষ হলে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নামগুলো আবার যুক্ত করা হবে বলে আশ্বাস দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মঙ্গলবার শিলিগুড়িতে বিজেপির নির্বাচনী সভা থেকে এই মন্তব্য করেন তিনি। তিনি দাবি করেন, সাধারণ ভোটারদের নাম বাদ যাওয়ার ঘটনায় দায়ী রাজ্য সরকার এবং তৃণমূল নেতৃত্ব। সেই প্রসঙ্গেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে শাহ বলেন, “দিদিকে সরানোর সময় এসে গেছে।”
মঙ্গলবার সুকনায় বিজেপির প্রার্থীর সমর্থনে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। জনসভা থেকে তিনি বলেন, নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠন করতে পারলেই গোর্খা সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে।তিনি দাবি করেন, পাঁচ দশকের পুরনো এই সমস্যার সমাধান কেবল বিজেপিই করতে পারে এবং এর জন্য দল গোর্খা জনগণের ইচ্ছাকেই অগ্রাধিকার দেবে। শাহ বলেন, “বাংলায় বিজেপির সরকার এলে ৬ মে থেকেই গোর্খা সমাজের মুখে সন্তুষ্টির হাসি ফেরানোর রোডম্যাপ তৈরি করা হবে।” তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, রাজ্যে চলা অন্যায়ের অবসান ঘটাতে এবার পরিবর্তনের সময় এসেছে। তাঁর কথায়, “উত্তরবঙ্গ হোক বা দার্জিলিং সব জায়গাতেই মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। তৃণমূল, কংগ্রেস ও সিপিএম সবাই একসময় অন্যায় করেছে, তার জবাব দিতেই হবে।” শাহ আরও বলেন, আন্দোলনের পথ বন্ধ করে স্থায়ী সমাধান দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই বিজেপি কাজ করবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো বঞ্চনার অভিযোগ না ওঠে।
সুকনায় বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে আয়োজিত জনসভায় দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ভোটার তালিকা ও গোর্খা ইস্যুতে একাধিক প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি অভিযোগ করেন, SIR প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বহু গোর্খা নাগরিকের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে, যার জন্য তিনি তৃণমূল নেতৃত্বকে দায়ী করেন।
শাহ বলেন, নির্বাচন শেষ হলেই বাদ পড়া নামগুলো পুনরায় তালিকাভুক্ত করার কাজ শুরু করবে বিজেপি। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, “বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন কি না, তা মানুষই বলুক।”রাজনৈতিক আক্রমণ শানিয়ে তিনি আরও বলেন, রাজ্যে পরিবর্তন এলে অনুপ্রবেশ রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেবে বিজেপি সরকার। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিও চারটি নতুন শিল্পপার্ক, সরকারি কর্মীদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশনের সুবিধা, পাশাপাশি রাজ্যের মহিলাদের জন্য মাসিক আর্থিক সহায়তা এবং বেকার যুবকদের জন্য ভাতা চালুর আশ্বাস দেন তিনি।
গোর্খা ইস্যুতে শাহ বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে পাহাড়-সহ গোটা অঞ্চলের মানুষের উপর থাকা মামলা প্রত্যাহার করা হবে এবং দীর্ঘদিনের আন্দোলনের অবসান ঘটিয়ে স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরি করা হবে।


