Aaj India Desk, কলকাতা : একুশে জুলাইয়ের শহীদ কর্মসূচি থেকে কালীঘাট শিবিরকে নাম না করে একাধিক ইস্যুতে আক্রমণ শানালেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee)। শহীদ দিবসের মঞ্চে তারকা সংস্কৃতির সমালোচনা ও ২১ জুলাই তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশের প্রশ্ন তুলে মঙ্গলবার মেয়ো রোডের সভা থেকে একাধিক রাজনৈতিক বার্তা দেন তিনি। পাশাপাশি এদিন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, দলের হাতে আর্থিক সামর্থ্য এলে ২১ জুলাইয়ের প্রত্যেক শহিদ পরিবারের জন্য মাসিক ১০ হাজার টাকা ভাতা চালু করা হবে।
তারকা সংস্কৃতি নিয়ে কটাক্ষ
মেয়ো রোডে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে আয়োজিত সভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) বলেন, শহিদ দিবসের মঞ্চ কোনও “রিয়্যালিটি শো” বা “ক্যাটওয়াকের জায়গা” নয়। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সেলিব্রিটিদের সামনে এনে মঞ্চকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, অথচ প্রকৃত সংগঠক ও রাজনৈতিক কর্মীরা প্রাপ্য মর্যাদা পাননি।
তিনি আরও দাবি করেন, মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত কর্মীদের আইনি লড়াইয়ে যাঁরা পাশে থেকেছেন, তাঁদেরও যথাযথ সম্মান দেওয়া হয়নি। তাঁর বক্তব্য, শহিদ দিবসের মূল চেতনা থেকে সরে গিয়ে তারকা-কেন্দ্রিক আয়োজনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পথে বাধার অভিযোগ
সভায় যোগ দিতে আসা কর্মী-সমর্থকদের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ঋতব্রত (Ritabrata Banerjee)। তাঁর দাবি, বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা বাস আটকে দেওয়া হয়েছে। মহেশতলায় এক বিজেপি মণ্ডল সভাপতির বিরুদ্ধে কর্মীদের বাস আটকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি। এই ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হবে বলে জানান ঋতব্রত। তাঁর বক্তব্য, ভয় দেখিয়ে তাঁদের রাজনৈতিক কর্মসূচি আটকানো যাবে না।
তদন্ত রিপোর্ট ও আর্থিক স্বচ্ছতার প্রশ্ন
সভা থেকে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন তোলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, এত বছর পরেও ২১ জুলাইয়ের তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি কেন, তার জবাব দেওয়া উচিত। একইসঙ্গে দলের তহবিলের হিসেব প্রকাশ করে শ্বেতপত্র আনার দাবিও জানান তিনি। তাঁর মতে, রাজনৈতিক দলের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
মেয়ো রোডের সভা থেকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য শুধু কালীঘাট শিবিরের সমালোচনাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; সংগঠনের চরিত্র, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং শহিদ দিবসের মূল চেতনা নিয়েও একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। আগামী দিনে এই মতভেদের রাজনৈতিক প্রভাব এবং দলীয় সমীকরণ কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।


