Aaj India Desk, কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) ভেঙে যাওয়ার পর এ বছরই প্রথম ২১ জুলাই শহিদ দিবস (Sahid Divas Rally) পালন করল দল। তাই এবারের কর্মসূচি ছিল অনেকটাই আলাদা। একদিকে মেয়ো রোডে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee) নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী আলাদা সভা করে। অন্যদিকে বিড়লা তারামণ্ডল চত্বরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নেতৃত্বে মূল তৃণমূলের সমাবেশ হয়। আর সেই সভার মঞ্চ থেকেই মমতা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের পাশাপাশি দল ছেড়ে যাওয়া নেতাদেরও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তাঁর বক্তব্যের বড় অংশ জুড়ে ছিল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari) লক্ষ্য করে কটাক্ষ।
ভাষণের শুরুতেই দলত্যাগীদের নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সরাসরি নাম না করলেও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীকে বিজেপির ‘বি-টিম’ বলে আক্রমণ করেন। তাঁর অভিযোগ, আলাদা শিবির তৈরি করে আসলে বিজেপিকেই সুবিধা করে দেওয়া হচ্ছে। দল ছেড়ে যাওয়া নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমরা বেঁচে গেছি, চোরগুলো বিজেপিতে চলে যাচ্ছে। বিজেপির পাশবালিশ হয়ে থাকার দরকার নেই, সরাসরি বিজেপিতেই যোগ দিন। আপনাদের জায়গা দলের ছাত্র-যুবরাই নিয়ে নেবে।”
এরপর তিনি শুভেন্দু অধিকারীর প্রসঙ্গ তোলেন। নাম না করেই মমতার অভিযোগ, বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার বদলে তৃণমূলকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। বিরোধীদের দমন করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। এই প্রসঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে মমতার হুঁশিয়ারি, “মুখ খুললে আপনি তৃণমূলে ১০ বছর কী করেছেন, সব মুখোশ খুলে দেব।”
মমতার এই মন্তব্যকে রাজনৈতিক মহল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে। কারণ, বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর শুভেন্দু অধিকারীকে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়েও তিনি একই ধরনের ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বলেছিলেন। সে সময় মমতা মনে করিয়ে দিয়েছিলেন যে, শুভেন্দু দীর্ঘদিন তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক ও মন্ত্রী ছিলেন এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব সামলেছেন। তখন তিনি বলেছিলেন, “আপনি কী করেছেন, সবটাই আমি জানি।” ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে সেই পুরনো বক্তব্যই আবার তুলে ধরলেন তিনি।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীকে আক্রমণ করে মমতা আরও বলেন, ভয় দেখিয়ে কিছু মানুষকে কিছু সময়ের জন্য চুপ করানো গেলেও তাতে দলের আসল শক্তি কমে না। তাঁর কথায়, “আসল তৃণমূল আমরা। শুধু সাইনবোর্ড লাগালেই দল হয়ে যায় না। ওটা বিজেপির সাইনবোর্ড। কয়েকজন নেতা চলে গিয়েছেন, কিন্তু কর্মীরা আমাদের সঙ্গেই আছেন।”
দলত্যাগীদের উদ্দেশে শেষবারের মতো কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “আপনাদের আর প্রয়োজন নেই। ধনে, মানে, প্রাণে ভালো থাকুন। নতুন প্রজন্মকে নিয়েই নতুন করে লড়াই হবে।”এরপর ফের বিজেপির প্রসঙ্গ তুলে মমতা দাবি করেন, তৃণমূল ছেড়ে যাঁরা অন্য শিবিরে গিয়েছেন, তাঁদের অবস্থান এখন পরিষ্কার। তিনি আবারও বলেন, “আমরা বেঁচে গেছি। চোরগুলো বিজেপিতে চলে যাচ্ছে। তাই বলব, পাশবালিশ হয়ে থাকার প্রয়োজন নেই, সরাসরি বিজেপিতেই যোগ দিন। আপনাদের জায়গা দলের ছাত্র-যুবরাই নিয়ে নেবে।”
সব মিলিয়ে, দল ভাঙার পর প্রথম ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ধারাবাহিক আক্রমণ আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সংঘাত আরও বাড়াবে বলেই মনে করা হচ্ছে।


