Aaj India Desk, কলকাতা : তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সভানেত্রীর পদ-সহ দলের সমস্ত সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দিয়েছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya)। এর মধ্যেই দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর কাছে পদত্যাগপত্রও পাঠিয়েছেন তিনি। কিন্তু কী কারণে এই ইস্তফার সিদ্ধান্ত তা নিয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি উক্ত পদত্যাগপত্রে। তবে এবার নিজের মুখেই সেই কারণ খোলসা করলেন মমতার একসময়ের ছায়াসঙ্গী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।
মেট্রোপলিটন ভবনকে ঘিরে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পরেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। শুক্রবার রাতে ঋতব্রত-পন্থী তৃনমূল শিবির ওই ভবনের দখল নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পোস্টার তুলে অরূপ রায়ের ছবি সহ পোস্টার ও ফ্ল্যাগ লাগায়। এই উত্তেজনার পরিস্থিতিতে হঠাৎই মমতার ফোন আসে চন্দ্রিমার কাছে। দাবি অনুযায়ী, ফোনেই এই ভবন হস্তান্তরের ঘটনায় চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের (Chandrima Bhattacharya) ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফোনে জানতে চান, “তুমি ওদের হাতে ভবন তুলে দিলে ?” এরপরই অভিমানে সমস্ত সাংগঠনিক পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।
চন্দ্রিমা বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে দলের সংগঠনকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছেন এবং প্রতিদিনই দলের কার্যালয়ে উপস্থিত থেকেছেন। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “আমার আনুগত্য নিয়ে যখন প্রশ্ন উঠেছে, তখন এই পরিস্থিতিতে কাজ করা সম্ভব নয়। কঠোর সিদ্ধান্ত অনেক নিয়েছি, কিন্তু আনুগত্যে কখনও ফাঁক ছিল না। আহত মন নিয়ে সরে দাঁড়ালাম।”
উল্লেখ্য, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya) দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে পরিচিত। তিনি অতীতে স্বাস্থ্য, অর্থ সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের মন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন। ফলে বর্তমানের জটিল পরিস্থিতিতে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের মতো মমতার একনিষ্ঠ সমর্থকের এই পদত্যাগকে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।


