Aaj India Desk,কলকাতা:নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে শনিবার কলকাতার পদ্মপুকুর থেকে লালবাজার পর্যন্ত রাজনৈতিক নাটকীয়তার সাক্ষী থাকল শহর। আদালতের অনুমতি না থাকায় কালীঘাট তৃণমূলের কর্মসূচি ঘিরে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, নেতা-কর্মীদের আটক এবং শেষ পর্যন্ত স্কুটিতে চেপে লালবাজার যাওয়া সব মিলিয়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। কিন্তু এই ঘটনার মাঝেই নতুন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে অন্য একটি বিষয় হেলমেট ছাড়া প্রকাশ্যে স্কুটিতে যাত্রা।
পদ্মপুকুর এলাকায় তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়-সহ একাধিক নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিশ লালবাজারে নিয়ে যায়। এরপর প্রতিবাদ জানাতে বিক্ষোভস্থল থেকেই এক যুবনেত্রীর স্কুটির পিছনে বসে লালবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সেই যাত্রার একাধিক ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
এখানেই উঠছে প্রশ্ন। পশ্চিমবঙ্গে মোটরযান আইনের অধীনে বাইক বা স্কুটির চালক এবং পিছনে বসা যাত্রী উভয়ের ক্ষেত্রেই হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক। নিয়ম ভাঙলে ₹১,০০০ পর্যন্ত জরিমানা এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ড্রাইভিং লাইসেন্স সাসপেন্ড হওয়ারও বিধান রয়েছে।
তাহলে প্রশ্ন উঠছে, এই আইন কি শুধুই সাধারণ মানুষের জন্য? যদি একজন সাধারণ নাগরিক হেলমেট ছাড়া রাস্তায় বের হন, তাহলে ট্রাফিক পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়। কিন্তু জনসমক্ষে একজন রাজনৈতিক নেতা বা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী একইভাবে হেলমেট ছাড়া দীর্ঘ পথ অতিক্রম করলে, সেই একই নিয়ম কি প্রযোজ্য হবে না?
পুলিশি পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদ দমন করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং বিরোধী কণ্ঠস্বর রুখতে বিজেপি সরকার প্রশাসনকে ব্যবহার করছে। তাঁর অভিযোগ, ছাত্র আন্দোলনের চাপে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন এবং একইভাবে বাংলায়ও প্রতিবাদ থামানোর চেষ্টা চলছে।
তবে রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরে এখন জনমানসে অন্য প্রশ্নই বেশি জোরালো হয়ে উঠছে আইনের চোখে কি সবাই সমান? হেলমেট না পরার জন্য যেখানে প্রতিদিন সাধারণ মানুষকে জরিমানা দিতে হয়, সেখানে একজন শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ক্ষেত্রেও কি একই আইন কার্যকর হবে? নাকি ক্ষমতার সঙ্গে আইনের প্রয়োগও বদলে যায়?
এই প্রশ্নের উত্তর এখন প্রশাসন ও ট্রাফিক পুলিশের কাছেই প্রত্যাশা করছে রাজ্যের সাধারণ মানুষ।


