Aaj India Desk, নয়া দিল্লি : প্রায় ৩৬ দিন ধরে দিল্লির যন্তরমন্তরে চলা আন্দোলনের (Jantar Mantar Protest) ইতি টানল ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। কেন্দ্রের কাছ থেকে লিখিত আশ্বাস পাওয়ার পর শনিবার সন্ধ্যায় আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা করেন সংগঠনের নেতৃত্ব। এর আগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহার, ভবিষ্যতে কোনও আইনি পদক্ষেপ না নেওয়া এবং শিক্ষা সংস্কার নিয়ে আলোচনার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে কেন্দ্র। আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবিতেও ইতিবাচক অবস্থান নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর নতুন বৈঠক
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর শনিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিং ককরোচ জনতা পার্টির দুই প্রতিনিধি সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে জানানো হয়, আন্দোলনকারীদের মূল দাবিগুলি পূরণের জন্য কেন্দ্র লিখিত আশ্বাস দিয়েছে।
মামলা প্রত্যাহারের লিখিত গ্যারান্টি
জেপি নাড্ডা জানান, এই আন্দোলনের (Jantar Mantar Protest) জেরে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আর কোনও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। দিল্লি ও বিজেপি-শাসিত বিভিন্ন রাজ্যে এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া সমস্ত এফআইআর প্রত্যাহার করা হবে বলেও তিনি ঘোষণা করেন। ভবিষ্যতেও এই আন্দোলন সংক্রান্ত নতুন কোনও মামলা দায়ের করা হবে না বলে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
ক্ষতিপূরণ ও শিক্ষা সংস্কারে কেন্দ্রের অবস্থান
নিট প্রশ্নফাঁসের জেরে আত্মহত্যা করা পড়ুয়াদের পরিবারের জন্য ১ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তার দাবি তুলেছিল ককরোচ জনতা পার্টি। এ বিষয়ে জেপি নাড্ডা বলেন, আইন অনুযায়ী যতটা সম্ভব আর্থিক সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করবে সরকার। পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থা ও পরীক্ষা পদ্ধতির সংস্কার নিয়ে সংগঠনের পাঁচ দফা প্রস্তাব নিয়েও আগামী দিনে যৌথভাবে কাজ করার আশ্বাস দিয়েছে কেন্দ্র। এই প্রক্রিয়ায় ছাত্রছাত্রীদের মতামতও নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
সরকারের লিখিত আশ্বাসের পর ককরোচ জনতা পার্টির মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা আন্দোলন (Jantar Mantar Protest) প্রত্যাহারের ঘোষণা করেন। সৌরভ দাস বলেন, সরকার তাদের সমস্ত দাবি গ্রহণ করায় তাঁরা সদিচ্ছার ভিত্তিতে আন্দোলন শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে বাড়ি ফিরে যাওয়ার আবেদনও জানান। আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, “৩৬ দিনের আন্দোলনের পর সরকার আমাদের সব দাবি মেনে নিয়েছে। তাই আমরা সকলকে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছি।”
আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণার পর দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে লাউডস্পিকারে আন্দোলনকারীদের যন্তরমন্তর ছেড়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। গত এক মাস ধরে চলা এই আন্দোলনের কারণে ওই এলাকায় যান চলাচলে বিঘ্ন, বাজারে ভিড় কমে যাওয়া এবং একাধিক মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তবে এবার আন্দোলন প্রত্যাহারের পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে বলে প্রশাসনের আশা।


