কলকাতা: পাঁচ বছর আগের সেই দুর্ঘটনা। হুইলচেয়ারে বসে মমতার (Mamata Banerjee) নির্বাচনী প্রচার। পা ভাঙা নিয়ে তুমুল রাজনৈতিক তরজা। ২০২৬-এর ভোটের পর সেই পুরনো ঘটনাই ফের সামনে! আর তাতেই রেগে আগুন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)! রোগীর মেডিক্যাল রিপোর্টের গোপনীয়তা নিয়ে এসএসকেএম-কেই ধরানো হল চিঠি!
২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামের প্রার্থী ছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। প্রচারের সময় বিরুলিয়া বাজারের কাছে দুর্ঘটনায় তাঁর পায়ে চোট লাগে। এরপর হুইলচেয়ারে বসেই প্রচার চালান তিনি। তাঁর চোট আদৌ গুরুতর ছিল কি না, তা নিয়ে তখন বিস্তর রাজনৈতিক বিতর্ক হয়।
২০২৬-এর নির্বাচনে ভবানীপুরে মমতাকে হারিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী ওই দুর্ঘটনা নিয়ে সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি বাঙ্গুর, এসএসকেএম-সহ বিভিন্ন হাসপাতালের তৎকালীন চিকিৎসা সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রকাশ করে তাঁর দাবি, নথিগুলি মমতার পা ভাঙার দাবিকে সমর্থন করে না।
কিন্তু রিপোর্ট প্রকাশ হতেই উঠেছে নতুন প্রশ্ন, একজন রোগীর অনুমতি ছাড়া তাঁর ব্যক্তিগত মেডিক্যাল নথি কি প্রকাশ্যে আনা যায়? এই প্রশ্ন তুলেই সোমবার এসএসকেএমের ডিরেক্টর, সুপার এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধানকে আইনি চিঠি পাঠিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ইনজীবী অর্ক নাগ। জানতে চাওয়া হয়েছে, কোন নিয়মের ভিত্তিতে ওই রিপোর্ট প্রকাশ করা হল?
ফলে একুশের পুরনো ‘হুইলচেয়ার বিতর্ক’ এবার গড়াল নতুন আইনি সংঘাতে। রাজনৈতিক অভিযোগের পাল্টাপাল্টির মাঝেই সামনে এখন একটাই প্রশ্ন, রোগীর গোপনীয়তা, নাকি রাজনৈতিক প্রমাণ?


