Aaj India Desk, কলকাতা : মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর রাজ্য জুড়ে চলছে হকার উচ্ছেদ। সেই হকার উচ্ছেদ নিয়ে বিক্ষোভের পর এবার আন্তর্জাতিক হকার দিবসকে উপলক্ষ করে সরাসরি বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
সামাজিক মাধ্যমে এক দীর্ঘ পোস্ট করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিজেপি সরকার হকারদের উচ্ছেদ, দোকান ভাঙচুর এবং প্রশাসনিক অত্যাচারের পথ নিয়েছে। তাঁর দাবি, বহু হকার জীবিকা হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পোস্ট : https://x.com/i/status/2059183244332150994
পোস্টে সেই হকারদের উল্লেখ করে তিনি লেখেন, “আপনাদের পাশে ছিলাম, আছি, থাকবো।” একই সঙ্গে তিনি বলেন, হকারদের চোখের জল উপেক্ষা করে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং এর জবাব মানুষ দেবে।
মমতা তাঁর বক্তব্যে রাস্তার হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্থানীয় অর্থনীতির “মেরুদণ্ড” বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, হকাররা সাধারণ মানুষের কাছে স্বল্পমূল্যে জরুরি পণ্য পৌঁছে দেন এবং বহু নিম্নবিত্ত পরিবারের স্বনির্ভরতার পথ তৈরি করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, উন্নয়নশীল দেশগুলিতে অনানুষ্ঠানিক ক্ষেত্র কর্মসংস্থানের একটি বড় উৎস। ফলে হকারদের শুধুমাত্র অবৈধ দখলদার হিসেবে দেখলে চলবে না, বরং নগর অর্থনীতির অংশ হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।
পোস্টে তিনি ‘স্ট্রিট ভেন্ডর (সুরক্ষা ও নিয়মকানুন) আইন, ২০১৪’-এরও উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, এই আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্য ছিল পথচারীদের অধিকার ও হকারদের জীবিকার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা। তিনি দাবি করেন, একটি সুপরিকল্পিত শহরের লক্ষ্য হওয়া উচিত হকার উচ্ছেদ নয়, বরং সুশৃঙ্খল বাজার ব্যবস্থা গড়ে তুলে তাঁদের নগর কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পোস্টে সুপ্রিম কোর্টের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলার কথাও তুলে ধরেন। এর মধ্যে ছিল ‘বোম্বে হকার্স ইউনিয়ন বনাম বোম্বে মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন’ (১৯৮৫), ‘সোদান সিং বনাম নিউ দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কমিটি’ (১৯৮৯) এবং ‘গেন্দা রাম বনাম মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অফ দিল্লি’ (২০১০)। তাঁর দাবি, এই সব রায়ে আদালত হকারদের জীবিকা অর্জনের সাংবিধানিক অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে। একই সঙ্গে আদালত জানিয়েছে, সমীক্ষা বা বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া আকস্মিক উচ্ছেদ সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী হতে পারে।
পোস্টে টাউন ভেন্ডিং কমিটি (TVC)-র কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, হকারদের নিয়ন্ত্রণ বা পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক ও আইনি কাঠামোর মাধ্যমেই সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত, যাতে হকারদের মতামতও প্রতিফলিত হয়।
হকার উচ্ছেদ ও রাস্তা দখল নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। আন্তর্জাতিক হকার দিবসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বার্তা সেই বিতর্ককে নতুন করে উস্কে দিল বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।


