কলকাতা: বিদ্রোহীদের (Rebel TMC MP) প্রকোপে নাস্তানাবুদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল। বারাসাতের তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার যাবতীয় জল্পনা প্রমাণ করে জানিয়ে দেন, তৃণমূলের ২০ জন সাংসদ এনডিএ-এর পথে পা বাড়াচ্ছেন। তাঁরা পৃথকভাবে কাজ করবেন। শুধু তাই নয়, মুখ্য সচেতক হিসেবে কাজ করবেন তিনি নিজে। লোকসভায় এই ঘটনাকে অনেকেই ‘কাকলি মডেল’ আখ্যা দিয়েছেন।
সূত্রের খবর, এই ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ (Rebel TMC MP) আপাতত বিজেপি বা NDA-তে যোগ দিচ্ছেন না। বরং পৃথক ব্লক গড়ে সংসদে নিজেদের অবস্থান বজায় রাখতে পারেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তাঁরা তৃণমূলের সাংসদ হিসেবেই লোকসভায় কাজ চালিয়ে যাবেন, যদিও প্রত্যক্ষভাবে বিজেপি বা NDA-র সঙ্গে নিজেদের মিশিয়ে দিতে চাইছেন না। তবে একইসঙ্গে জল্পনা বাড়িয়েছে আরেকটি সম্ভাবনা।
জানা গিয়েছে, তৃণমূলের ২০ জন লোকসভার সাংসদ এবং কয়েকজন রাজ্যসভার সাংসদ ইস্যুভিত্তিকভাবে NDA-কে সমর্থন করতে পারেন। সেক্ষেত্রে মহিলা সংরক্ষণ বিল বা ডিলিমিটেশন বিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে মোদী সরকার নতুন করে সংখ্যার অঙ্ক মেলানোর চেষ্টা করতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সোমবার থেকে দিল্লিতে শুরু হয় একের পর এক রাজনৈতিক বৈঠক। সকালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে তৃণমূলের একঝাঁক সাংসদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরে সন্ধ্যায় বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায়ের বাসভবনেও আরেক দফা আলোচনা হয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, বিদ্রোহী সাংসদরা (Rebel TMC MP) কি বিজেপির দিকে এগোচ্ছেন, নাকি সংসদে নতুন শক্তি হিসেবেই নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন? তবে সেই সম্ভাবনা আপাতত স্থগিত বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। বরং, আলাদা ব্লক তৈরি করে পরোক্ষভাবে তাঁরা বিজেপির বিল পাশে সহযোগিতা করবে বলে মনে করা হচ্ছে।


