কলকাতা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) তৃণমূলের শিরে সংক্রান্তি! অস্তিত্ত্ব বাঁচাতে প্রায় ৩ দশক পর কংগ্রেসে ফিরতে চলেছেন মমতা—জল্পনা তুঙ্গে। সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে মমতার বৈঠকের পর রাহুল গান্ধীর সঙ্গে প্রায় দেড় ঘন্টার বৈঠক করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক সেরে বুধবার কলকাতায় ফিরলেন মমতা।
এদিকে বিদ্রোহী দলের প্রধান সৈনিক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee) সঙ্গে সাক্ষাৎ সেরেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপস্থিতিতে তাঁর অন্যতম সৈনিক ফিরহাদ হাকিম। তৃণমূলের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিভিন্ন মহলে এখন একটাই প্রশ্ন, তবে কি তৃণমূলের সঙ্গে কংগ্রেসের সংযুক্তিকরণ শুধু সময়ের অপেক্ষা? তৃণমূল-কংগ্রেস সংযুক্তিকরণ প্রশ্নে বিদ্রোহী ঋতব্রতের (Ritabrata Banerjee) সাফ জবাব, “আমরাই আসল তৃণমূল। আমরা তো মিশে যাচ্ছি না।”
কি বললেন কুণাল ঘোষ?
তৃণমূলের অন্দরে ভাঙনের জল্পনার আবহে দিল্লির হাইভোল্টেজ বৈঠক নিয়ে মুখ খুললেন কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে INDIA ব্লকের বৈঠকে ছিলেন। দুই শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। রাহুল গান্ধীর সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়েরও বৈঠক হয়েছে। কংগ্রেস ও তৃণমূলের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। INDIA ব্লক মানেই কাছাকাছি আসা।”
একইসঙ্গে বিদ্রোহী সাংসদদেরও নিশানা করেন কুণাল। তাঁর দাবি, “যাঁরা বিজেপি-ঘেঁষা হয়ে চলছেন, তাঁদের আচরণও বিজেপি-পন্থী হয়ে গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের প্রার্থী হিসেবে জিতে এসে এভাবে কথা বলার কোনও মানে হয় না।” কংগ্রেসকেও খোঁচা দিয়ে কুণাল বলেন, “২০১৪ সাল থেকে কংগ্রেস যদি শক্তিশালী বিরোধী ভূমিকা পালন করতে পারত, তাহলে সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে আরও এগোতে পারত। আজ বিজেপির এতটা শক্তিশালী অবস্থাও হত না।”
কি বললেন অধীর?
এদিকে দিল্লির বৈঠক এবং তৃণমূল-কংগ্রেস সম্পর্ক নিয়ে জল্পনার মাঝেই মুখ খুলেছেন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী (Adhir Ranjan Chowdhury)। তিনি বলেন, “সনিয়া গান্ধি অত্যন্ত উদার মানসিকতার মানুষ, তিনি সবাইকে ক্ষমা করে দেন। আজ তৃণমূল কংগ্রেস যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে, তা মূলত তাদের নিজেদের ভুলের ফল।” তবে তৃণমূলের সঙ্গে কংগ্রেসের কোনও সম্ভাব্য সংযুক্তি বা মার্জার নিয়ে স্পষ্ট মন্তব্য এড়িয়ে যান অধীর। তাঁর বক্তব্য, “দলীয় সংযুক্তি হবে কি না, সে বিষয়ে আমি কিছু জানি না। সেটি পুরোপুরি শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের বিষয়।”


