Aaj India Desk, কলকাতা: জোড়াফুল প্রতীক থাকবে কার দখলে? তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)-এর প্রকৃত দাবি কার? আর দলের তহবিলের (Fund) নিয়ন্ত্রণই বা কার হাতে যাবে? বিধানসভা ভোটের পর দল ভাঙনের জেরে এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতেই এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে নির্বাচন কমিশন (ECI)। আর সেই কারণেই সোমবার দিল্লির নির্বাচন সদনে নিজেদের দাবি জানাতে পৌঁছল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) শিবির।
সোমবার সকালে তৃণমূলের পক্ষ থেকে সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee) নির্বাচন কমিশনের দফতরে গিয়ে দলের প্রয়োজনীয় নথি এবং লিখিত বক্তব্য জমা দেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দলের আর এক সাংসদ সাগরিকা ঘোষ। কমিশনের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যেই সব নথি জমা দেওয়া হয়েছে বলে কালীঘাট সূত্রে জানা গিয়েছে।
তৃণমূলের কোন শিবিরই আসল, তা নির্ধারণ করতে গত সপ্তাহে নির্বাচন কমিশন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিদ্রোহী শিবিরের নেতা তথা বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়— দুই পক্ষকেই চিঠি পাঠিয়েছিল। সেখানে সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্যে নিজেদের দাবি এবং তার সমর্থনে প্রয়োজনীয় প্রমাণ জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশ মেনেই নির্ধারিত সময়ের আগেই কালীঘাট শিবির কমিশনের কাছে সমস্ত নথি জমা দেয়।
অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন। নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি দাবি করেন, তাঁদের দলের চেয়ারম্যান অরূপ রায়। তাঁর অভিযোগ, এতদিন দলকে একজন “চার্টার্ড ব্যুরোক্র্যাট” নিয়ন্ত্রণ করছিলেন এবং তৃণমূলকে পারিবারিক সম্পত্তির মতো চালানো হচ্ছিল। সেই পরিস্থিতির বিরুদ্ধেই তাঁরা লড়াই করছেন বলে জানান তিনি।
সোমবার বিকেল পর্যন্ত ঋতব্রত শিবিরের তরফে নতুন কোনও বড় পদক্ষেপের খবর সামনে না এলেও, তারা আগেই জানিয়েছিল যে নির্বাচন কমিশনের পাঠানো ইমেল তারা পেয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নিজেদের বক্তব্য কমিশনের কাছে জমা দেবে।
এখন নজর নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকে। দুই পক্ষের জমা দেওয়া নথি, সাংগঠনিক শক্তি এবং আইনি যুক্তি খতিয়ে দেখেই কমিশন ঠিক করবে তৃণমূলের প্রকৃত দাবিদার কারা। সেই সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করবে জোড়াফুল প্রতীক, দলের স্বীকৃতি এবং তহবিলের নিয়ন্ত্রণ শেষ পর্যন্ত কোন শিবিরের হাতে যাবে।


